অকার্যকর আইনে বিটিভির মহাপরিচালক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন-২০০১’ অনুযায়ী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব কাজী জেসিনকে প্রতিষ্ঠানটির ডিজি নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে আইনটি আদৌ কার্যকর আছে কি না, সেই তথ্য দিতে পারছে না তথ্য মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বিটিভির ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির রুলস-রেগুলেশনের অন্তত ২২ দলিল থাকলেও ‘টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন-২০০১’-এর তথ্য সেখানে নেই। দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বিটিভির স্বায়ত্তশাসনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হলেও এটি কার্যকরের ক্ষেত্রে সরকার গেজেট নোটিফিকেশন জারি করবে বলে সেই আইনেই উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনটিতে বলা বলা হয়েছে, ‘সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবৎ হইবে।’

কিন্তু গত ২৫ বছরে আইনটি বলবৎ করতে কোনো সরকারই প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। অর্থাৎ আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। আর এই আইনের রেফারেন্স দিয়েই নতুন ডিজি নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বিটিভিতে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব হারুণ-অর-রশিদ। মন্তব্য জানতে চাইলে গতকাল শনিবার তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিটিভি পরিচালনার জন্য ২০০১ সালের আইনটি প্রণয়ন হলেও আমি কর্মরত অবস্থায় সেটি কার্যকর ছিল না। এর মধ্যে আইনটি কার্যকর হয়েছে, এমনটি শুনিনি, কার্যকর না হলে সেই আইনে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।

‘গেজেট নোটিফিকেশন জারির মাধ্যমে আইনটি কার্যকর করা হয়ে থাকলে নিয়োগে কোনো সমস্যা নেই’, যোগ করেন তিনি।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের মধ্য থেকে যুগ্মসচিব/অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার অফিসারদের ডেপুটেশনে বা সরকারের বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিকভাবে বিটিভির ডিজি নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ অনুযায়ী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বা পেশাজীবীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া মাহবুবুল আলমকে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন—সরকারি চাকরি আইনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অকার্যকর আইনে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ কেন দেওয়া হলো? এই বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন ডিজি নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে সই করা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গোলাম রব্বানী কোনো মন্তব্য না করে ঊর্ধ্বতন অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।

এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার যুগ্মসচিব নিলুফার জেসমিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করছি, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আমাদের অনুবিভাগ প্রধানের সঙ্গে কথা বলুন।’

এরপর যোগাযোগের জন্য মোবাইলে কল এবং টেক্সট মেসেজ দিলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের প্রধান আকনুর রহমান কোনো সাড়া দেননি।

জনপ্রশাসনে যেকোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আগে একাধিক পর্যায়ে যাচাই-বাছাই হয়, তারপরও কীভাবে এমনটা হলো— এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মতো দক্ষ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন অফিসারদের জনপ্রশাসনে নিয়োগ দেওয়া উচিত। না হয় এমন সমস্যা ঘটতেই থাকবে।’

‘কিছুদিন আগে যুগ্মসচিব পদে অবসরে যাওয়া এক অফিসারকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল, এই হলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অবস্থা’ উদাহরণ দিয়ে বলেন ওই অফিসার।

Related Articles

Latest Posts