সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

গত এক সপ্তাহ ধরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, এই মুহূর্তে বন্যার শঙ্কা নেই।

পাউবো জানায়, আজ রোববার সকালে কাজীপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১৩ দশমিক ৭৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল—যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ০৬ মিটার নিচে।

একই সময়ে, সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ২৭ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার নিচে।

পাউবোর পরিসংখ্যান বলছে, ৩ আগস্ট থেকে যমুনার পানি বাড়তে শুরু করেছে। গত ছয় দিনে কাজীপুর পয়েন্টে ৭৬ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৮৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে যমুনার পানি বাড়ছে। আগামী এক বা দুই দিন এভাবে পানি বাড়তে থাকবে এবং এরপর আবার কমতে শুরু করবে।

তিনি বলেন, যমুনার পানি বাড়লেও বন্যার পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বিপৎসীমা অতিক্রম করার কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না, তাই এই মুহূর্তে জেলায় বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। 

যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন, তবুও জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এরইমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. আব্দুল জলিল বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চৌহালী উপজেলার অন্তত শতাধিক বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় উপজেলার পুরো চরাঞ্চল এখন প্লাবিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চল প্লাবিত হলেও বন্যার পানি এখনও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়িতে ঢোকেনি।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে চরাঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রামই তলিয়ে গেছে। চাষের জমি পানির নিচে থাকায় ওই এলাকার খেটে খাওয়া মানুষগুলো এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

সিরাজগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) মো. আব্দুল আউয়াল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পানি বাড়লেও জেলায় ফসলের তেমন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কারণ বেশিরভাগ ফসল আগেই ঘরে তোলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ধান ও পাট কাটার পর পানি বেড়েছে, ফলে বন্যার পানি আসার আগেই অধিকাংশ কৃষক তাদের ফসল রক্ষা করতে পেরেছেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে সবজি খেত এবং উঁচু জমির ফসল তলিয়ে যেতে পারে।

Related Articles

Latest Posts