জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে থাকা মানুষের ভাস্কর্যগুলোর মুখাবয়ব মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
আজ রোববার জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
জাদুঘরে থাকা ভাস্কর্য প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়ে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ছিল। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল—রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় মুসলিম সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী মানুষের ভাস্কর্য থাকতে পারে না।
‘সে জায়গা থেকে শাপলা চত্বরের শহীদদের মুখাবয়ব বাদ দিয়ে তাদের স্মৃতি ও ঘটনাকে চিত্রিত করার পরামর্শ দিচ্ছি’, বলেন তিনি।
জাদুঘরের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানান খেলাফত মজলিসের আমির।
তিনি বলেন, সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও স্মৃতিচিহ্ন অত্যন্ত মামুলিভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং মূল্যবান অনেক জিনিস মানুষের হাতের নাগালে রয়েছে। এগুলো প্রদর্শনের পাশাপাশি সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। ২০১৩ সালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর সারা দেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ২০১৫-১৬ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার পরের আন্দোলন এবং ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিও যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।
১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার স্মৃতি যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, একইভাবে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিও সংরক্ষণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফেলানী হত্যার স্মৃতি জাদুঘরে না থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মামুনুল হক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেলানীর ঝুলন্ত মরদেহের ছবির চেয়ে বড় ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের ছবি বাংলাদেশের সামনে আসেনি। ওই দৃশ্য পুরো বাংলাদেশকে তুলে ধরেছিল। সেটি জাদুঘরে স্থান না পাওয়ায় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে।
জুলাই ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশীজনদের স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
যার যতটুকু ভূমিকা, সেভাবেই স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের বৈষম্য কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
