অভিষেকেই বাজিমাত, কিরগিজ ক্লাবকে হারিয়ে চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে ফর্টিস

মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই বাজিমাত করেছে ফর্টিস এফসি। প্রিলিমিনারি প্লে-অফে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। ফলে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দলটি।

ঘরের মাঠে দ্বিতীয়ার্ধে জয়সূচক গোলটি করে লড়াইয়ে পার্থক্য গড়ে দেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এই ফরোয়ার্ড আবাহনী লিমিটেড থেকে ধারে খেলছেন ফর্টিসের হয়ে। তিনিসহ তিন স্থানীয় ফুটবলারের সঙ্গে আটজন বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে শুরুর একাদশ সাজিয়েছিল দলটি।

গত মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) তৃতীয় হয়েছিল ফর্টিস। তবে নানা জটিলতায় চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও রানার্সআপ আবাহনী প্লে-অফের জন্য উপযুক্ত হয়নি। ফলে চ্যালেঞ্জ লিগে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ দুটি জায়গার একটি পেয়ে গেছে ফর্টিস। সেই সুযোগ দারুণভাবে কাজেও লাগিয়েছে মাসুদ কায়সারের শিষ্যরা।

কিংস অ্যারেনায় প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার মধ্যে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উচ্চতা ও শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা মুরাসের চেয়ে ফর্টিসই তুলনামূলক ভালো খেলেছে। তবে কিরগিজ প্রিমিয়ার লিগের রানার্সআপরা গত বছর ঢাকা স্টেডিয়ামে আবাহনীকে এই প্লে-অফ পর্বেই ২-০ গোলে হারিয়েছিল।

ম্যাচের ১২তম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। প্রতি-আক্রমণ থেকে থ্রু বল পেয়ে ইব্রাহিম তা স্টিফেন চুকউদের দিকে বাড়িয়ে দেন। কিন্তু গোলপোস্টের সামনে এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন।

কিছুক্ষণ পরই ফর্টিসকে খুব কাছাকাছি পৌঁছেও হতাশ হতে হয়। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে অধিনায়ক পা ওমার বাবুর নেওয়া শট কাছের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা এরপর দুর্দান্ত একটি সেভ করেন। তিনি মুরাসের আতাবায়েভ কানাতবেকভিচের প্রচেষ্টা রুখে দেন।

বিরতির পর অবশেষে ম্যাচের ৫২তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ফর্টিস। নিজেদের অর্ধ থেকে একক নৈপুণ্যে সামনে এগিয়ে ওমার বাবু ডি-বক্সে খুঁজে নেন ইব্রাহিমকে। তিনি ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের সোজাসুজি শটে কাঁপান জাল।

তিন মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নেপালি ডিফেন্ডার অনন্ত তামাং একটি বাঁকানো শট নেন। কিন্তু মুরাসের গোলরক্ষক শরীর শূন্যে ভাসিয়ে দারুণ কায়দায় তা কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে তৈরি হয় চরম নাটকীয়তা। পেনাল্টি পায় সফরকারী দলটি। ডি-বক্সের ভেতর নেপালি মিডফিল্ডার এরিক বিস্তার হাতে বল লাগলে স্পট-কিকের বাঁশি বাজান রেফারি। তবে আতাবায়েভের নেওয়া শট পোস্টে লাগলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে ফর্টিস।

মরিয়া হয়ে অলআউট আক্রমণে গেলেও শেষমেশ গোল পরিশোধ করতে পারেনি মুরাস। লিড ধরে রেখে বাকি সময় পার করে দিয়ে আনন্দে ভাসে ফর্টিস। দলটির খেলোয়াড়-কোচ-কর্মকর্তাদের সঙ্গে উল্লাসে যোগ দেন স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় আড়াই হাজার দর্শক।

এবারের চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফে বাংলাদেশের অপর প্রতিনিধি হলো পুলিশ এফসি। তারা আগামীকাল বুধবার জর্ডানের মাটিতে সিরিয়ার ক্লাব আল ইত্তিহাদ আহলির মুখোমুখি হবে।

Related Articles

Latest Posts