বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং যখন দিশেহারা, তখনও একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন স্টিভ স্মিথ। শেষ পর্যন্ত ৭১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার। তবে এই ইনিংসটিও যে অনেক আগেই শেষ হয়ে যেতে পারত, সেটি ম্যাচ শেষে নিজেই স্বীকার করেছেন স্মিথ। জানিয়েছেন, প্রযুক্তির কারণেই এদিন বেঁচে গেছেন তিনি।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটের সঙ্গে এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে টাইগাররা। জবাবে দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে রেখেছে সফরকারীরা।
তবে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়েছেন স্মিথ। যদিও তার সেই লড়াইয়ের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেতে পারতেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৬৮ রান। স্মিথের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ২৩ বলে মাত্র ৭। ইনিংসের ২১তম ওভারে এবাদতের করা পঞ্চম স্টাম্পের বলটিতে ব্যাট চালান স্মিথ। বল ব্যাটের পাশ দিয়ে উইকেটকিপারের হাতে চলে গেলে জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশ। মাঠের আম্পায়ার অবশ্য সাড়া দেননি।
রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু রিয়েল-টাইম স্নিকোতে কোনো স্পষ্ট শব্দ বা বিচ্যুতি ধরা না পড়ায় মাঠের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ফলে অল্পের জন্য বেঁচে যান স্মিথ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই বলটি তিনি ব্যাটে ছুঁয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে স্মিথের সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমার মনে হয়, হ্যাঁ।’
নিজের ভাগ্যকেও দায়ী করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান ছিলাম? মনে হচ্ছে তাই। মাঝে মাঝে এমনটা মেনে নিতেই হয়।’
প্রযুক্তির ওপর আস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে স্মিথ আরও বলেন, ‘সাধারণত প্রযুক্তি বেশ ভালোই কাজ করে। হয়তো আমি বলটিতে ব্যাট লাগাইনি, জানি না। কিন্তু আমি অবশ্যই কিছু একটা অনুভব করেছিলাম। আমাকে আউট দেওয়া হলে আমি মাঠ ছেড়ে চলে যেতাম। তবে হ্যাঁ, আজ প্রযুক্তিই আমাকে বাঁচিয়েছে, বলা যায়।’
শুধু একবার নয়, স্মিথকে আরও একবার ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ২ রানে থাকা অবস্থায় এবাদতের বলেই ক্যাচের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তানজিদ হাসান সেই ক্যাচ নিতে পারেননি। জীবন পেয়ে এরপরই ইনিংস বড় করেন স্মিথ।
দুটি বড় সুযোগ থেকে বেঁচে শেষ পর্যন্ত ৪৫তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। তবে তার ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি। বাংলাদেশের পেসারদের সম্মিলিত আক্রমণে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলারও হয়েছেন হাসান।
আর স্মিথের ৭১ রানের প্রতিরোধও শেষ করেছেন এই হাসানই। তৃতীয় সেশনের শুরুতে স্মিথকে ফিরিয়ে দিনের নিজের পঞ্চম শিকার বানান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দিনের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন এই পেসার।
