বাংলাদেশ-সৌদি সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৪৯ থেকে বেড়ে ৮৪

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে অনুমোদিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা সপ্তাহে ৪৯টি থেকে বাড়িয়ে ৮৪টি করা হয়েছে। দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নতুন চুক্তিতে সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট, ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক অধিকার, কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন ও উড়োজাহাজ নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

তিনি বলেন, ‘নতুন সমঝোতা স্মারকের ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাবে। আগে এ সংখ্যা ছিল ৪৯। নতুন ফ্লাইট চালুর ফলে দুই দেশের যাত্রীদের বাড়তি চাহিদা পূরণ করা সহজ হবে।’

বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, হজ ও ওমরাহযাত্রীরা এর অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী হবেন। বিশেষ করে হজ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, আসন সংকট এবং ফ্লাইট পরিচালনার বিভিন্ন জটিলতা মোকাবিলায় বাড়তি ফ্লাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সৌদি আরবে বসবাস ও কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশিও এর সুফল পাবেন বলে জানান মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

তিনি বলেন, ফ্লাইট ও আসনসংখ্যা বাড়লে প্রবাসীদের দেশে আসা-যাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে যাত্রীরা আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী বিমানভাড়া পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

নতুন এমওইউ অনুযায়ী, সৌদি আরবের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটে আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাবে। এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সমঝোতা স্মারকে সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সৌদি বাজারে তৈরি পোশাক, তাজা শাকসবজি ও ফলসহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়তে পারে।

ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক অধিকারের অধীনে, বাংলাদেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো সৌদি আরব হয়ে স্পেন ও জার্মানিসহ নির্ধারিত গন্তব্যে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।

এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে মনোনীত এয়ারলাইনগুলো নিজেদের দেশ, অপর পক্ষ বা তৃতীয় কোনো দেশের এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কোড-শেয়ারিংসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি করতে পারবে।

চুক্তিতে কো-টার্মিনালাইজেশনের সুযোগও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় আইন ও বিধি মেনে একটি ফ্লাইটেই একই দেশের একাধিক গন্তব্যে যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

এয়ারলাইনগুলোকে লিজ নেওয়া উড়োজাহাজ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ধারণক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যস্ত মৌসুমে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনায় এয়ারলাইনগুলোর নমনীয়তা বাড়বে।

নতুন চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে যাত্রী পরিবহন, হজ ও ওমরাহ কার্যক্রম, প্রবাসীদের যাতায়াত, কার্গো পরিবহন, বাণিজ্য এবং এয়ারলাইনগুলোর অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

Related Articles

Latest Posts