ভারতের উত্তরাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি সুড়ঙ্গে ভূমিধসের কারণে পানি ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ায় অন্তত সাত শ্রমিকের প্রাণহানি হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার এএফপির প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানা গেছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাতে হিমালয়সংলগ্ন উত্তরাখণ্ড রাজ্যে ঘটে। সেখানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য শ্রমিকরা সুড়ঙ্গ নির্মাণ করছিলেন।
রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখনো অন্তত তিন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের প্রকল্প এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মাথায় টর্চ লাগানো উদ্ধারকর্মীরা অস্থায়ী ভেলায় করে সুড়ঙ্গের প্লাবিত অংশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারী মৌসুমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে উত্তরাখণ্ড।
ভারতে বড় নির্মাণ প্রকল্পের কাজের জায়গায় এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, অতিরিক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ভঙ্গুর হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঘটনা বেড়েছে।
গত মাসে দেশটির প্রত্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে আরেকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাজ করার সময় ২০ জনের প্রাণহানি হয়।
২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডে একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার পর ১৭ দিন আটকে থাকার পর ৪১ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ।
জুনে বার্ষিক মৌসুমি বৃষ্টি শুরুর পর থেকে ভারতজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে শত শত মানুষ মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব দুর্যোগের মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
