ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের দাপট যে অস্ট্রেলিয়াকে বেশ ভালোভাবেই ভাবিয়েছে, সেটি এখন স্পষ্ট। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও নতুন বল হাতে দারুণ চাপ তৈরি করেছে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউড মনে করছেন, বাংলাদেশের কাছ থেকেই নিজেদের করণীয়ের পথটা দেখে নেওয়া উচিত তাদের।
শনিবার দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে হ্যাজলউড বলেন, ‘বাংলাদেশ যেভাবে তখন বোলিং করেছে, সেটা বেশ আঁটসাঁট ছিল। তারা খুব বেশি কিছু দেওয়ার সুযোগ দেয়নি, আবার কয়েকটি বল থেকে ফলও পেয়েছে। আমার মনে হয়, এগিয়ে যাওয়ার পথটা এটাই।’
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের বোলিংয়েই মূলত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে টাইগারদের হাতে। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররাই নিয়েছেন সবকটি উইকেট। টেস্ট ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের পেসাররা এক ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেট তুলে নেওয়ার কীর্তি গড়েন।
সেখানে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নেন দুটি করে উইকেট।
বাংলাদেশের বোলিংয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে হ্যাজলউড বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি। দিনের শুরুতে বল যখন নড়াচড়া করছিল, তখন বাংলাদেশি পেসাররা সেই সুবিধা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।
‘তারা কন্ডিশনের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে বোলিং করেছে। পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, প্রথম দিনের প্রথম ভাগেই উইকেট থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছিল, আর তারা সেটাই কাজে লাগিয়েছে। আমার মনে হয়েছে, তারা দারুণ ফুল লেংথে বল করেছে,’ বলেন হ্যাজলউড।
প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুটা ভালো হয়নি। হাসান মাহমুদ ফিরিয়েছেন দুই ওপেনারকেই। ডারউইনে জন্ম নেওয়া জেক ওয়েদারাল্ড নিজের মাঠে তৃতীয় বলেই কোনো রান না করে ফেরেন। এরপর ট্রাভিস হেডকে ১৭ রানে ফিরিয়ে দেন হাসান।
মারনাস লাবুশেন ৩১ ও স্টিভ স্মিথ ৪৪ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দুজনই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফলে ১২০ রানে চার উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পরে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ হতে দেননি। গ্রিন ৪৩ ও ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।
এখনও বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতে হলে অন্তত এই রানটুকু করতে হবে স্বাগতিকদের। হাতে আছে দুই দিন।
উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো থাকায় উইকেট নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ করার চেয়ে রান তোলার গতি কমিয়ে ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করাই বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন হ্যাজলউড, ‘উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো। আমার মনে হয়, রান করার গতি কমিয়ে দেওয়া এবং এভাবে ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করাই সম্ভবত উইকেট পাওয়ার উপায়।’
এখনও ম্যাচ জয়ের আশা ছাড়েনি অস্ট্রেলিয়া। তবে তার আগে বড় বাধা পেরোতে হবে তাদের। হ্যাজলউডের হিসাবে, অস্ট্রেলিয়া এখনো প্রায় ৭০ রানে পিছিয়ে। চতুর্থ দিনে এই ঘাটতি মুছে ফেলতে পারলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তিনি, ‘আমরা এখনো, আমার মনে হয়, প্রায় ৭০ রান পিছিয়ে। এই ঘাটতিটা পূরণ করার পরও যদি চার উইকেট হাতে থাকে, তাহলে আমরা চাপটা তৈরি করতে শুরু করতে পারব।’
চতুর্থ দিনে দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে পারলে শেষ দিনে উইকেটের আচরণ বদলে যাওয়াকেও নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চান হ্যাজলউড, ‘আমরা যদি কাল গভীর পর্যন্ত ব্যাট করতে পারি, এমনকি পুরো দিনও যদি ব্যাট করা যায়, তাহলে শেষ দিনে ১০ উইকেট নেওয়ার সুযোগ সব সময়ই থাকে, বিশেষ করে উইকেট যদি কিছুটা ওঠানামা করে। তাই জয় এখনো অবশ্যই আমাদের ভাবনায় আছে।’
