নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে ৩ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুর ৩টার দিকে ইসদাইর রেললাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় ইসদাইর এলাকার জসিম (২৪) ও মোহনকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ।
তাদের মধ্যে জসিমের পায়ে গুলি লেগেছে। তার কাছ থেকে একটি গুলিভর্তি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশ জানায়, মাদক চোরাকারবারিদের ছোড়া ইট-পাটকেল ও তাদের ধরতে দৌড়াদৌড়ির সময় ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিক, বন্ধন চন্দ্র সরকার ও কনস্টেবল রাশেদুল আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্রে জানা যায়, মাদক চোরাকারবারিদের একটি দল এলাকায় অস্ত্রসহ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের ইসদাইর এলাকায় মহড়া দেওয়ার খবর পেয়ে অভিযান চালায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পুলিশকে দেখেই তারা গুলি ও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে।
ওসি মাহবুব বলেন, ‘পরিস্থিতি সামলাতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছোড়ে। পরে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসদাইরে মাদক চোরাকারবার ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন রাজ্জাক এবং তার দুই ছেলে জসিম ও ওয়াসিম। গত এপ্রিলে গুলিসহ রাজ্জাক ও তার ছোটছেলে মো. ওয়াসিম গ্রেপ্তার হন। এর কয়েকদিন আগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন জসিম।
কয়েকদিন আগে বাবা ও ছেলেরা তিনজনই জামিনে বেরিয়ে আসেন এবং এলাকার আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অপু কুমার সাহা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জসিমের পায়ে দুটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ভেতরে গুলি আছে কি না, তা জানতে এক্স-রে করা হচ্ছে।’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ইসদাইর এলাকার মাদক চোরকারবারিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
