হালান্ডের ভিডিও দেখে বার্সায় নিজেকে গড়ছেন হামজা

বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর খুব বেশি সময় কাটেনি, এরই মধ্যে কোচ হান্সি ফ্লিকের নজর কেড়ে নিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী হামজা আবদেলকারিম। গোল করার দক্ষতার পাশাপাশি পেনাল্টি বক্সে সঠিক সময়ে পৌঁছানোর ক্ষমতায় মুগ্ধ করেছেন জার্মান কোচকে। আর নিজেকে আরও পরিণত করতে হামজা শিখছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের খেলা দেখেও।

বার্মিংহামের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর হামজার প্রশংসা করেছিলেন ফ্লিক। তিনি বলেছিলেন, ‘একজন স্ট্রাইকার হিসেবে আপনাকে বক্সের মধ্যে ঢুকতে হবে, আর আজ সে সেটাই করেছে। ৯ নম্বরের কাছে আমি এটাই চাই।’

ফ্লিকের চাহিদার সঙ্গে হামজার খেলার ধরনও বেশ ভালোভাবে মিলে যাচ্ছে। মূলত একজন স্ট্রাইকার হলেও প্রয়োজনে নিচে নেমে বল গ্রহণ করতে পারেন তিনি। তবে বার্সেলোনার কোচিং স্টাফের চাওয়া, আক্রমণের শেষ মুহূর্তে যেন হামজা নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেনাল্টি বক্সে উপস্থিত থাকেন।

এ কারণেই হামজাকে তার প্রথম অনুশীলন থেকেই বিভিন্ন বিষয় শেখানো হচ্ছে। এমনকি তার অবস্থান ও মুভমেন্ট আরও পরিষ্কার করতে কোচিং স্টাফ তাকে হালান্ড ও ভিক্টর গিয়োকেরেসের খেলার ভিডিও দেখিয়েছে।

বিশেষ করে কখন নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে এবং কখন বক্সে অবস্থান ধরে রাখতে হবে, সেটিই বোঝানো হয়েছে হামজাকে। পাশাপাশি স্যামুয়েল এতো’র ভিডিওও দেখানো হয়েছে, যাতে একজন ক্লাসিক ৯ নম্বর কীভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের জায়গা পরিবর্তন করেন, সেটি বুঝতে পারেন তিনি।

বার্সেলোনার ফরোয়ার্ডদের দেখে হামজাও মাঝেমধ্যে নিচে নেমে বল নেওয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু কোচিং স্টাফ তাকে বুঝিয়েছে, ম্যাচের পরিস্থিতি দাবি করলেই কেবল এভাবে নিচে নামা উচিত। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গোলের জায়গায় পৌঁছানো।

হামজার ফিনিশিং দক্ষতাও শুরু থেকেই নজর কেড়েছে বার্সেলোনার স্টাফদের। ক্লাবে তার প্রথম অনুশীলনে ফিনিশিং পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ক্রস থেকে বল পেয়ে কিংবা কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে শটে বেশ কার্যকর ছিলেন তিনি।

প্রথম দিকের একটি হেডার দেখেই অনুশীলনে থাকা একজনের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘যখন সে প্রথম বলটিতে হেড করল, আমরা ভাবলাম, এটা অবিশ্বাস্য!’

প্রাক-মৌসুমেও তার পারফরম্যান্স সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিন গোল করেছেন হামজা। পাঁচটি শট থেকেই এসেছে এই তিন গোল, যা তার ফিনিশিংয়ের দক্ষতারও প্রমাণ।

খেলার মধ্যে অংশগ্রহণের দিক থেকেও হামজাকে গত মৌসুমের রবার্ট লেভানদোভস্কির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তথ্য পাওয়া দুই প্রীতি ম্যাচের মধ্যে বাসেলের বিপক্ষে ৮টি এবং বার্মিংহামের বিপক্ষে ৯টি পাস দিয়েছেন তিনি। বাসেলের বিপক্ষে ৪৫ মিনিটে বল স্পর্শ করেছেন ৯ বার, আর বার্মিংহামের বিপক্ষে ৬২ মিনিটে ২৪ বার।

তবে হামজার সামনে এখনো বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। বুধবার আল আহলির বিপক্ষে বার্সেলোনার প্রাক-মৌসুমের শেষ ম্যাচে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে অভিষেক হবে তার। ম্যাচটি আরও বিশেষ হয়ে উঠছে প্রতিপক্ষের কারণে, এটাই তার সাবেক ক্লাব।

আল আহলির মূল দলেও নয়টি ম্যাচ খেলেছেন হামজা। ফলে পুরোনো সতীর্থদের বিপক্ষেই এবার বার্সেলোনার জার্সিতে মাঠে নামবেন তিনি। আর হামজার পরিবারও আল আহলির সমর্থক। তার বাবা মিশরের জাতীয় ভলিবল দলের হয়ে খেলেছেন। 

Related Articles

Latest Posts