শিশু বয়স থেকে দীর্ঘ সময় নিয়মিত পর্দায় দেখা গেছে অভিনয়শিল্পী সাবরীন সাকা মিমকে। অনেক নাটকে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। অথচ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে শোবিজ অঙ্গন থেকে দূরে আছেন। বর্তমানে চাকরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ কী? মিম জানান, পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল তার। বিয়ের আগে শ্বশুরবাড়ির সবাই জানতেন আমি অভিনয়শিল্পী। কিন্তু বিয়ের পর বুঝতে পারি, তারা চান না আমি অভিনয় করি। এ কারণেই অভিনয় থেকে সরে দাঁড়াই।
অভিনয় ছেড়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই সংসার টেকেনি মিমের। তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে বুঝতে পারি, সংসার করা সম্ভব নয়। তবে এ নিয়ে কাউকে দোষ দেব না, অসম্মানও করব না। একসময় বিবাহবিচ্ছেদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
বিবাহবিচ্ছেদের পর পরিবারের সম্পূর্ণভাবে সমর্থন পেয়েছেন মিম। বিচ্ছেদের পর মা-বাবাকে নিয়ে কয়েক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। মিমের ভাষায়, ‘তখন মনে হয়েছিল, একটু দূরে চলে যাই, তাহলে হয়তো ভালো থাকতে পারব, সময়টা অতটা কঠিন মনে হবে না। পরিবারের সমর্থন তখন খুব কাজে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সঙ্গেই সময় কেটেছে।’
বিয়ের পর অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও কিছুদিন টেলিভিশনে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে কাজ করেছিলেন মিম। একসময় সেটাও ছেড়ে দেন।
এখন কেমন আছেন, জানতে চাইলে বললেন, ‘ভালো আছি। সত্যিই আমি ভালো আছি। মা, বাবা, ছোট বোন, বোনের সন্তান, অফিস—সব মিলিয়ে দারুণ আছি।’
বেশ কয়েক বছর ধরে ‘অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে যুক্ত আছেন মিম। কাজের প্রয়োজনে প্রায়ই ঢাকার বাইরে যেতে হয়। কাজ করেন অবহেলিত শিশুদের নিয়ে। পেশাজীবন নিয়ে মিম বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে কাজ করতে ভীষণ ভালো লাগে। আমি আমার বর্তমান চাকরিটা খুব উপভোগ করছি।’
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর্দায় না থাকলেও ভক্তরা তাকে ভোলেননি। প্রায়ই দর্শকদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। মিম বলেন, ‘যেখানেই যাই, আমাকে একটি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়—অভিনয় থেকে কেন দূরে আছি? কবে আবার নিয়মিত অভিনয় করব?’ এত বছর পর্দায় না থেকেও দর্শকের এই ভালোবাসাকে অনেক বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন মিম। পুরোনো নাটকের সূত্র ধরে মানুষ তাকে মনে রেখেছেন, এটাই আনন্দ।
অভিনয়ে ফেরার কোনো ভাবনা আছে কি? এমন প্রশ্নে মিম বলেন, ‘অভিনয় করব না, তা কখনো বলিনি; তবে আগের মতো আর নিয়মিত হব না। সে রকম ব্যস্ত হওয়ার ইচ্ছাও নেই। তবে যদি মনের মতো কোনো গল্প পাই, তাহলে অল্পস্বল্প কাজ করতে পারি।’
