ফলোঅন এড়াতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। তবু দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত লড়াইয়ে ম্যাচে ফিরেছে স্বাগতিকরা। পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারার ৯২ এবং কামিন্দু মেন্ডিসের অর্ধশতকে ভারতের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও দিনের শেষ ভাগের ধস ও বৃষ্টিতে ম্যাচের মোড় আবার ভারতের দিকেই ঝুঁকেছে।
কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে চার উইকেট হাতে নিয়ে ভারতের চেয়ে মাত্র ১৬ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। ফলে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনটি হতে যাচ্ছে দারুণ নাটকীয়।
দিনের শুরুতেই শ্রীলঙ্কার চোখ ছিল সোনাল দিনুশার শতকের দিকে। ফলোঅন এড়াতে তার বড় ইনিংসের প্রয়োজনও ছিল। দিনের চতুর্থ বলেই ব্যক্তিগত ৮৫ রানে সরাংশ জৈনের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছিলেন। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি স্টাম্পের ওপর দিয়ে চলে যেত।
সেই জীবন পেয়ে দ্রুতই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন দিনুশা। জৈনকে ছক্কা ও চার মেরে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে যান তিনি। এরপর প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার শর্ট বলে মিড-অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে সিরিজে নিজের দ্বিতীয় শতক পূর্ণ করেন।
শেষ পর্যন্ত ১০৩ রান করেন দিনুশা। লাহিরু কুমারার সঙ্গে তার ৫৮ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে ফলোঅন এড়ানোর কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সরাংশ জৈন দুজনকেই ফিরিয়ে দিয়ে টেস্টে নিজের প্রথম উইকেটের স্বাদ পান।
শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস থামে ২৯০ রানে, ফলোঅন এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় স্কোরের চেয়ে ১৪ রান কম। ফলে ভারত ফলোঅন করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুটা ছিল শ্রীলঙ্কার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। মোহাম্মদ সিরাজের ধারালো বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে মাত্র ৩ রানে আউট হন লাহিরু উদারা। স্কোর তখন ৫ রানে ১ উইকেট।
সেখান থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন কামিল মিশারা ও পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা। ভারতীয় স্পিনারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান মিশারা। ৩২ রানে রবীন্দ্র জাদেজার শিকার হলেও সুরিয়াবান্দারা থামেননি।
স্পিনারদের সেট হতে দেননি তিনি। তুলে নেন টেস্টের দ্বিতীয় অর্ধশতকও। এরপর কামিন্দু মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন তৃতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ১১৫ রানের জুটি।
সাদা পোশাকে সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দে না থাকা কামিন্দুও এদিন নিজেকে খুঁজে পান। তিনি ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। তবে পুল করতে গিয়ে ভুল শট খেললে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে তাঁকে ফেরান শুভমান গিল।
এরপরও সুরিয়াবান্দারাকে দেখে মনে হচ্ছিল, শতকটা কেবল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু ৯২ রানে তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। মানভ সুথারের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে বলের নাগাল পাননি তিনি। রিশভ পান্ত দ্রুত স্টাম্পিং করে ভারতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন।
শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার অগ্রযাত্রা ধাক্কা খায়। তবে ততক্ষণে তারা ভারতের লিড টপকে গেছে। এরপর বৃষ্টি আগেভাগেই দিনের খেলা শেষ করে দেয়। এখন চার উইকেট হাতে শ্রীলঙ্কার লিড মাত্র ১৬ রান।
তবে শেষ দিনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হয়ে থাকতে পারে আবহাওয়া। বৃষ্টি যদি ফের বাধা দেয়, তাহলে জমে থাকা এই টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণে সেটিও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
