রদ্রির অভিষেক ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে লা লিগায় টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল শিরোপাধারী বার্সেলোনা। অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের গোলরক্ষক উনাই সিমন ও পোস্ট বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ালেও কাতালানদের আটকানো যায়নি। আক্রমণের বন্যা বইয়ে দিয়ে দুই অর্ধে একবার করে জালের দেখা মেলে দলটির।
বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ২-০ গোলে বিলবাওকে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। প্রথমার্ধে রাফিনিয়া স্বাগতিকদের এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান ফারমিন লোপেজ।
নতুন মৌসুমে লিগের প্রথম ম্যাচে গত রোববার রাতে এলচের মাঠে ৫-০ গোলের বিশাল জয় পেয়েছিল বার্সা। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় সেদিন খেলেননি ব্যালন দি’অর ও বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি। ফিট হয়ে ওঠায় বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে রাখা হয় তাকে। ৫৯ হাজার ৩২৬ জন দর্শকের সামনে ৬৩তম মিনিটে মার্ক বার্নালের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বার্সেলোনায় নাম লেখানো রদ্রি ক্যাম্প ন্যুতে এর আগে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন— ভিয়ারিয়াল ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের জার্সিতে। ক্লাব পর্যায়ে শেষবার তাকে এই মাঠে খেলতে দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালের এপ্রিলে। লা লিগার ওই ম্যাচে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের লক্ষ্যভেদে অ্যাতলেতিকোকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল বার্সা।
ম্যাচ শেষে ৩০ বছর বয়সী রদ্রি জানান, ‘এই জয়ে আনন্দিত’ তিনি। পাশাপাশি ‘এমন একটি দুর্দান্ত দলের সাথে মানিয়ে নিতে কঠোর পরিশ্রম করার ইচ্ছা’ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘এবারের গ্রীষ্মটা (চোট ও দলবদল নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে) অনেক উদ্বেগের ছিল, কিন্তু আমি যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম ঠিক সেখানেই আছি। এখন আমাকে সতীর্থদের ছন্দের সাথে মানিয়ে নিতে হবে এবং এখন কঠোর পরিশ্রম করার সময় এসেছে।’
৭০ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে গোলমুখে বার্সা শট নেয় ২২টি, যার ১০টি লক্ষ্যে ছিল। বিলবাওয়ের পাঁচটি শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারজয়ী সিমন একে একে আটটি সেভ করে বার্সার জয়ের ব্যবধান বড় হতে দেননি। ফ্লিকের দলকে আরও দুবার আটকে দেয় পোস্ট। ২৩তম মিনিটে রাফিনিয়ার চমৎকার হেড গোলপোস্টে বাধা পাওয়ার পর ৫৩তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া লামিন ইয়ামালের জোরালো শট ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। তবে পূর্ণ পয়েন্ট প্রাপ্তির হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বেগ পেতে হয়নি বার্সেলোনাকে।
৩৭তম মিনিটে পেদ্রির রক্ষণচেরা পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন রাফিনিয়া। পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসা সিমনকে এড়িয়ে জাল কাঁপিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। লা লিগায় দুই ম্যাচে এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের এটি তৃতীয় গোল।
এরপর ৮২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। দুই মিনিট আগে বদলি নামা করিম আদেইয়েমির নিচু ক্রস বিলবাওয়ের আইমেরিক লাপোর্ত নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। তার ভুলের কারণে সিমনও বোকা বনে যান। এই সুযোগে বল পেয়ে যাওয়া ফারমিন তা অনায়াসে ফাঁকা জালে পাঠিয়ে দেন।
খেলার ধারার বিপরীতে অবশ্য সমতায় ফিরতে পারত সফরকারীরা। ৭৫তম মিনিটে ওইহান সানচেতের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া, বাকিটা সময় একেবারে নিরুদ্বেগ কাটান বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া।
দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ দুইয়ে, সেভিয়া তিনে ও রিয়াল বেতিস চারে অবস্থান করছে।
