নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৯ জনে।
আজ শুক্রবার সকালে নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, এ ঘটনায় তিব্বতে পাঁচজন মারা গেছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা থেকে এখনো মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। তবে দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টার মাথায় বেশির ভাগ মরদেহ পাওয়া গেছে চিতওয়ান জেলায়।
বুধবার সকালে হিমবাহ ধসে পড়ার পর হিমালয়ের নদীগুলো দিয়ে প্রবল স্রোতে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও কাদা নেমে আসে। এর ফলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।
বন্যার পানির প্রবল স্রোত গ্রাম ও উপত্যকাগুলো ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে সংযুক্ত করা এবং পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি।
এই দুর্যোগে অসংখ্য বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ।
এর মধ্যে তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জনের বেশি মানুষ।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যা আঘাত হানতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্ধার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ আছে।
নেপালি পুলিশ সব উদ্ধারকর্মীকে ‘অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে’ বলেছে। তাদের ভাষ্য, ‘তিব্বতের অংশে আবার একটি পানির বাঁধ ভেঙে গেছে’—এমন তথ্য তারা পেয়েছে।
এর আগে, তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হওয়া জিরং স্থলবন্দর-সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ স্থগিত করা হয়েছিল।
গত বুধবারের পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য অঞ্চলে যে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছিল, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে সেটির পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে।
যেকোনো মুহূর্তে এই হ্রদের বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন করে প্রাণঘাতী কাদা-পাথরের ধস কিংবা তীব্র পানির তোড় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি আজ শুক্রবার সকালে জানিয়েছে, নতুন তৈরি হওয়া এই হ্রদটি উপচে অনবরত পানি পড়তে শুরু করেছে।
