লর্ডসে এখন মিরাকলের আশায় পাকিস্তান

লর্ডসে বৃষ্টির পেটে যাওয়া তৃতীয় দিনে একটি বল মাঠে গড়ানোর আগেই ব্যাকফুটে ছিল পাকিস্তান। শেষমেশ দিন জুড়ে কয়েক দফায় খেলা আটকে না গিয়ে যতটুকুই হতো না কেন, পাকিস্তানের পরিণতি এমন হওয়াই যেন অবধারিত ছিল। শেষ পর্যন্ত দফায় দফায় মোটে ২৫ ওভারের মতো বল করার সুযোগ পেয়ে চার ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান সফরকারী বোলাররা। কিন্তু এর মাঝেই নিজেদের লিডকে ৩৫৭ রানে নিয়ে গিয়ে আরো ৯৬ রান যোগ করে ফেলে ইংল্যান্ড।  

চলতি ইনিংসে দুই উইকেট শিকার করা পেসার মোহাম্মদ আলীও খোলাখুলি স্বীকার করেছেন—মূল ক্ষতিটা আগের দিনই ব্যাটাররা করে এসেছেন। 

আলী বলেন, ‘প্রথম ইনিংসের পিছিয়ে পড়াটা অনেক বড় ধাক্কা ছিল। এত বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলে প্রতিপক্ষকে দ্রুত গুটিয়ে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। প্রথম ইনিংসের চেয়ে এই ইনিংসে আমরা অনেক ভালো বোলিং করেছি। সঠিক জায়গায় আর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বল ফেলেছি বলেই ইংল্যান্ডের সংগ্রহ এখন ১৭৭ রানে ৭ উইকেট।’

মেঘলা আবহাওয়া আর বৃষ্টির ঘনঘন বাঁধায় ব্যাটারদের ক্রিজে থিতু হওয়ার সুযোগ ছিল না, ফলে বোলিংয়ের উপযোগী পরিবেশই বজায় ছিল। ছিল বলের দুর্দান্ত সুইং আর অসমান বাউন্স। দিনের প্রথম উইকেটটি সেভাবেই আসে—মোহাম্মদ আব্বাসের নীচু হয়ে আসা এক ডেলিভারিতে কোনোমতে গোড়ালি সমান বাউন্স পেয়ে সরাসরি প্যাডে লাগে এমিলিও গেইয়ের। 

বাউন্সের বৈচিত্র্য নিয়ে আলী আরো যোগ করেন, ‘লর্ডসে সাধারণত এমন অসমান বাউন্স দেখা যায়। মৌসুমের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টেও এমনটা দেখা গিয়েছিল। ক্রিকেটার হিসেবে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। অন্যদের কথা বলব না, তবে আমাকে যদি সারাজীবন বোলিং করতে বলা হয়, আমি প্রস্তুত। কারণ এটাই আমার কাজ। দলে পেসার যতজনই খেলুক না কেন, এমন কন্ডিশনে বোলিংটা তাদের উপভোগ করা উচিত। নিজের ফিটনেস ও প্রস্তুতি ঠিক থাকলে কখনোই সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটেও আমরা এমন পরিস্থিতি দেখে আসছি। নিজের হাতে যা আছে, খেলোয়াড় হিসেবে সেটুকুই করার থাকে। আবহাওয়া, পরিবেশ, কন্ডিশন কিংবা উইকেট নিয়ে অতিরিক্ত মাথা ঘামানো ঠিক নয়।’

তবে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ অতটা সহনশীলতার পরিচয় দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। চলতি সিরিজে এখন পর্যন্ত ৩ ইনিংসে সব মিলিয়ে তারা করতে পেরেছে মোটে ৪১৭ রান। লর্ডসের এমন উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে অত বড় লক্ষ্যের পেছনে ছোটা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। 

বিষয়টি সম্যকরূপে অনুধাবন করতে পারছেন আলীও। তার ভাষ্য, ‘ক্রিকেটে অলৌকিক ঘটনা তো হরহামেশাই ঘটে। আমরা শুধু আশা ধরে রাখতে পারি আর ব্যাটারদের সাহস জোগাতে পারি।’ 

আলির মতে, ‘কাজটা নিঃসন্দেহে কঠিন, তবে অসম্ভব কিছু নয়। শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটে শেষ কথা বলে কিছু নেই। টেস্ট ম্যাচটি এখনো অনেকটা বাকি। অতীতে ৩৫০- ৪০০ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড রয়েছে। সবকিছু নির্ভর করছে নিজেদের মানসিকতা আর বিশ্বাসের ওপর। কন্ডিশন শক্ত হলেও এই চ্যালেঞ্জটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে এবং রান তোলার পথ বের করতেই হবে।’ 

 

Related Articles

Latest Posts