রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধান কোচ হয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছেন জোসে মরিনহো। তার অধীনে নতুন মৌসুমের লা লিগায় প্রথম তিন ম্যাচের সবকটি জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে লস ব্লাঙ্কোরা। এর পেছনে মূল চাবিকাঠি হলো দলটির আক্রমণভাগের তিন তারকার রসায়ন। অথচ অনেক দিন ধরেই আলোচনা রয়েছে— মাঠে কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহ্যামের একসঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
রোববার রাতে লিগের ম্যাচে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মালাগাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল। তাদের এই তিন তারকার সবাই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জয়ে। একটি করে গোল করেন ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপে ও ইংলিশ মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম। আর ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস করেন একটি অ্যাসিস্ট।
ম্যাচের পর এমবাপে, ভিনিসিয়ুস ও বেলিংহ্যামের মেলবন্ধন হওয়া সম্ভব না— এমন ধারণা উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ কোচ মরিনহো। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা যদি খুব ভালো হয়, তারা একে অপরের সঙ্গে খেলতে চায়। একই মানের ফুটবলারদের চিন্তার গতিও এক হয়।’
আগের মেয়াদে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়ালে প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা মরিনহো সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন, ‘আমি আসার আগে অনেকেই বলছিল, “মরিনহো এটা চায় না, ওটা চায় না। এই তিনজনের একসঙ্গে খেলা সম্ভব নয়।” অথচ আমি সব সময় বলে এসেছি, আমি সেরা ফুটবলারদেরই চাই। আমি শুধু দেখছি, ওরা সবাই সত্যিই ভীষণ দুর্দান্ত।’
চলমান লা লিগায় তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট অর্জন করার পথে রিয়াল গোল করেছে ১০টি। এমবাপে করেছেন চারটি গোল। বেলিংহ্যাম করেছেন দুটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট। ভিনিসিয়ুস একটি গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন।
২৩ বছর বয়সী বেলিংহ্যামের মানসিকতায আলাদাভাবে মুগ্ধ করেছে মরিনহোকে। শিষ্যের প্রশংসায় তিনি বলেছেন, ‘ও নিজের প্রতি ভীষণ কঠোর, সতীর্থদের প্রতিও তা-ই। ব্যাপারটা আমার খুব পছন্দ।’
নতুন ট্যাকটিকসে বেলিংহ্যামকে নিয়ে নিজের ভাবনা পরিষ্কার করেছেন ৬৩ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ, ‘আমি ওকে বলেছি, আমার ফুটবল ভাবনায় আমি ওকে দ্বিতীয় লেফট-ব্যাক হিসেবে খেলতে দেখতে চাই না। বেনফিকার কোচ থাকতে রিয়ালের বিপক্ষে যখন জিতেছিলাম, তখন দেখেছি— জুড বারবার বাঁ দিকে নেমে আসছিল। কিন্তু এখন ও জানে ওকে কী করতে হবে। এই ভূমিকায় সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে।’
মাঠে নতুন এই দায়িত্ব ও স্বাধীনতা বেলিংহ্যাম নিজেও উপভোগ করছেন। কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে থাকা এই তারকা নিজের ফর্মের রহস্য নিয়ে বলেছেন, ‘এখন আমি মাঠে একটু বেশি মুক্ত। দলের প্রয়োজনে সামনে যাওয়ার কিংবা পেছনে নেমে আসার স্বাধীনতা পাচ্ছি। আমি এটা খুব উপভোগ করছি। আর ঠিক সে কারণেই এখন ভালো খেলতে পারছি।’
স্কোয়াডে এমবাপে, ভিনিসিয়ুস ও বেলিংহ্যাম থাকা সত্ত্বেও গত মৌসুমে কোনো শিরোপাই জিততে পারেনি রিয়াল। এর আগের মৌসুমে কেবল উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। তাই একসঙ্গে এই তিন তারকার কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। মরিনহোর অধীনে পাওয়া উড়ন্ত শুরুকে কাজে লাগিয়ে তারা এবার ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে পারেন কি না সেটাই দেখার।
