বৈদেশিক মুদ্রার অভাব নেই: ইরান

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি।

আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধে হেরে যাওয়ার কারণেই তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে দুই বিলিয়ন ডলার (২০০ কোটি ডলার) পর্যন্ত সরবরাহ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন হেম্মাতি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বলছি, ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আছে এবং তা পর্যাপ্ত।’

সম্প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের মুখে ইরানের অর্থনীতি ক্রমেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছে বলে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন। এই পরিস্থিতিতে দেশের বাজারকে আশ্বস্ত করতেই হেম্মাতি এ মন্তব্য করেছেন বলে মনে হচ্ছে।

হেম্মাতি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রায় পাওনা অর্থ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। তাদের অভ্যন্তরীণ রিজার্ভ ও অন্যান্য উৎসও রয়েছে। তবে এসবের বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

হেম্মাতি বলেন, ‘আমি জনগণকে সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে বলছি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রা ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু এখনো (অর্থনীতিতে) ধস নামেনি এবং এমন ঘটনা সহজে ঘটবেও না।’

‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে এ ধরনের দাবিগুলো সামনে আসে। খুব শিগগির সব ধোঁয়াশা দূর হবে’, যোগ করেন তিনি। 

আগস্টে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রার বিনিময় হার নতুন রেকর্ড তৈরি করে। একপর্যায়ে এক ডলার কিনতে মুদ্রাবাজারে ২০ লাখ ইরানি রিয়াল খরচ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়।

অন্যদিকে জুলাইয়ে দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়।

সোমবার বেসেন্ট বলেন, ইরান এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছে।

‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে হেরে তারা পাল্টা সামরিক হামলা চালাচ্ছে’, দাবি করেন তিনি।

তেহরানকে নিজেদের দাবি মানতে বাধ্য করার চেষ্টা হিসেবে ওয়াশিংটন ক্রমেই অর্থনৈতিক চাপের ওপর বেশি নির্ভর করছে। 

বেসেন্ট সতর্ক করেছেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

 

Related Articles

Latest Posts