মোবাইল ফোন গ্রাহকদের মাসিক খরচের সীমা ১৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পাশাপাশি বার্ষিক খরচের সীমাও ১৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক হিসাব নেই—এমন মানুষদের কেনাকাটায় সহায়তা করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডিরেক্ট অপারেটর বিলিংয়ের (ডিওবি) আওতায় গ্রাহকেরা এখন থেকে মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স ব্যবহার করে স্মার্টফোন এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এর আগে ডিওবির মাধ্যমে স্মার্টফোন কেনা যেত না।
দ্য ডেইলি স্টার নথি পর্যালোচনা করে দেখেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পর বিটিআরসি ছয় মাসের জন্য এই সীমা বাড়িয়েছে।
এটি সাধারণ মোবাইল ওয়ালেটের মতো নয়, কেবলমাত্র নির্ধারিত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ডিওবি গ্রাহকেরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
বিটিআরসি কর্মকর্তা ও খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রাহকেরা এখন থেকে স্মার্টফোন, সিমভিত্তিক ডিভাইস ও রাউটারসহ অন্যান্য অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন। এছাড়া কিস্তি সুবিধায় স্মার্টফোন কেনার সুযোগও তৈরি হতে পারে এবং মোবাইল ব্যালেন্স থেকে কিস্তির অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
এখন পর্যন্ত সংশোধিত সীমার আওতায় শুধু গ্রামীণফোন অনুমোদন পেয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, অন্যান্য অপারেটরও অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবে।
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকার স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কার্ড বা অন্যান্য ব্যাংকিং চ্যানেলের সুবিধা নেই—এমন গ্রাহকেরা যাতে মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে হ্যান্ডসেট কিনতে পারেন, এটি সেই সুযোগ তৈরি করবে।’
গ্রাহকেরা ডিজিটাল কনটেন্ট, অ্যাপ ও অ্যাপ ব্যবহার করে কেনাকাটা, অনলাইন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ই-টিকিটিং, ই-হেলথ সেবা, সরকারি লটারি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন এবং শিক্ষা প্ল্যাটফর্মসহ অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধে ডিওবি ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে এটি অবাধে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল অর্থ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। গ্রাহকেরা ভার্চুয়াল মুদ্রা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ ও গেমে ব্যবহৃত কয়েন, পয়েন্ট, ক্রেডিট, কুপন, ডায়মন্ড ও জেম কিনতে পারবেন না।
জনগণের কাছ থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ করে, ঋণ দেয়, অর্থ সংরক্ষণ করে বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সুযোগ করে দেয়—এমন অ্যাপে লেনদেনও নিষিদ্ধ।
এছাড়া জুয়া, ক্যাসিনো, লটারি, ক্রিপটোকারেন্সি বা ক্রিপটো-অ্যাসেট কেনাবেচা, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, শেয়ারবাজারে লেনদেন বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রমে ডিওবি ব্যবহার করা যাবে না।
নন-রেসিডেন্ট মার্চেন্টদের এই সেবার ক্ষেত্রে—যেখানে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর প্রয়োজন হয়, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ডিওবি চালু হয়। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক মাসিক খরচের সীমা ৬০০ ও বার্ষিক সীমা ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাময়িকভাবে মাসিক সীমা ২ হাজার ও বার্ষিক সীমা ২০ হাজার টাকা করে। এটি চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কার্যকর ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত সাপেক্ষে বিটিআরসি অপারেটরদের বর্ধিত সীমার আওতায় সেবা দেওয়ার অনুমতি দেয়।
অপারেটরদেরই নিশ্চিত করতে হবে ডিওবির মাধ্যমে যেন গ্রাহকেরা ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারেন। গ্রাহকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও অপারেটরদের নিতে হবে। রিফান্ড ও চার্জব্যাক নীতিও তাদের প্রণয়ন করতে হবে।
ডিওবি কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে থাকবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় মোবাইল অপারেটরদের রিপোর্টিং সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
