রংপুরে সাংবাদিক উৎস হত্যা: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ২ জনের যাবজ্জীবন

রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মসিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রুবেল ইসলাম ওরফে হেকরম এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন লেলিন ইসলাম ওরফে এলিন ও শুভ কুমার। তিন আসামিই পলাতক রয়েছেন।

রায়ে খালাস পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন—জহিরন আক্তার জুই, রুপম ইসলাম, রিপন মিয়া, রোকসানা বেগম ও রুবেল মিয়া।

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলো।

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের মা নুরজাহান বেগম।

তিনি বলেন, ‘এ রায়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি আমরা।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুই ওরফে গেদী এ হত্যার মূলহোতা। অথচ আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার অসন্তুষ্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার পর মূলহোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ আরও বাড়বে।’

দৈনিক যুগান্তরের রংপুর ব্যুরো প্রধান মাহবুব রহমান হাবু বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই পলাতক। মামলার মূলহোতা গেদীও খালাস পেয়েছেন। সব মিলিয়ে বিষয়টি বিস্ময়কর।’

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল বলেন, ‘পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকরের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস (৩২) রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাতে নগরীর জিএল রায় রোডে কাজ শেষে বের হন উৎস রহমান। পরদিন সকালে নগরীর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছে একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় উৎসের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে জানা যায়, সাংবাদিক উৎস রহমান ধারাবাহিকভাবে মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে একটি চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এরই জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালে আটজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। 

Related Articles

Latest Posts