টটেনহ্যামে রিশার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সেটিই এবার বাস্তবে রূপ নিল। নতুন মৌসুমের প্রথমার্ধের জন্য প্রিমিয়ার লিগের স্কোয়াডে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে রাখেনি টটেনহ্যাম। দলবদলের শেষ দিনে সাবেক ক্লাব এভারটনে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলেও চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে লন্ডনের ক্লাবটিতে তার থাকার পথও যে বন্ধ হয়ে গেছে, স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্তে সেটি আরও পরিষ্কার হলো।
টটেনহ্যামের কোচ রবার্তো দে জেরবি গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন, রিশার্লিসন ক্লাব ছাড়তে চান। দলবদলের শেষ দিন পর্যন্ত এভারটনে ফেরার চেষ্টা চললেও দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়নি। ফলে আপাতত টটেনহ্যামেই আছেন ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে তাকে দেখা যাবে না।
রিশার্লিসনকে স্কোয়াডে না রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ, চলতি মৌসুমে দে জেরবির পরিকল্পনায় তিনি নেই। মঙ্গলবারের দলবদলের সময়সীমার আগেই খেলোয়াড়টিকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তবে রিশার্লিসনের ক্লাব ছাড়ার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তুরস্ক ও সৌদি আরবের দলবদলের বাজার এখনো খোলা থাকায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই টটেনহ্যাম ছাড়তে পারেন তিনি।
২০২২ সালের গ্রীষ্মে এভারটন থেকে টটেনহ্যামে যোগ দিয়েছিলেন রিশার্লিসন। তার আগে ২০১৮ সালে ওয়াটফোর্ড থেকে এভারটনে গিয়েছিলেন তিনি। টটেনহ্যামের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। অর্থাৎ, ক্লাবটির সঙ্গে তার সম্পর্কের শেষটা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছে।
মৌসুমের শুরুতে অবশ্য রিশার্লিসন টটেনহ্যামের একাদশেই ছিলেন। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে শুরু থেকেই খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু নিউক্যাসলের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাকে স্কোয়াডেই রাখেননি দে জেরবি।
সেই ম্যাচের পর রিশার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে টটেনহ্যাম কোচ বলেছিলেন, ‘রিশার্লিসন, আমি জানি না। সে অনেকবার বলেছে যে সে চলে যেতে চায়।’
এর আগে আগস্টেও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন দে জেরবি। তখন অবশ্য তার বক্তব্যে রিশার্লিসনকে হারানোর বিষয়ে কিছুটা আক্ষেপের সুরও ছিল। বলেছিলেন, ‘রিশার্লিসনের মতো আরেকজন স্ট্রাইকার খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।’
কিন্তু এরপরও টটেনহ্যাম আক্রমণভাগে নতুন সংযোজন করেছে। ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার ওমর মারমুশকে ধারে দলে ভিড়িয়েছে তারা। নিউক্যাসলের বিপক্ষে রিশার্লিসনের জায়গায় মারমুশকেই মাঠে নামান দে জেরবি।
রিশার্লিসনের জন্য সিদ্ধান্তটি তাই কিছুটা কঠিন হলেও পারফরম্যান্সের দিক থেকে গত মৌসুমে টটেনহ্যামের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। ৩২ ম্যাচে ১১ গোল করে ক্লাবটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। পাশাপাশি করেছিলেন চারটি অ্যাসিস্ট। টটেনহ্যাম যখন অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে ছিল, তখন দলের টিকে থাকার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি।
