দীর্ঘ নয় মাসের সামরিক মোতায়েন শেষে পাঁচ দিনের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য থাইল্যান্ডে গিয়েছিল মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা নিয়ে বুধবার দেশটির লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছানো রণতরিটি আজ রোববার থাইল্যান্ড ছেড়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন শেষে এই সফর ছিল নাবিকদের জন্য স্বস্তির বিরতি। আজ স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে পাতায়ার কাছের লায়েম চাবাং বন্দর ছেড়ে যায় রণতরিটি।
যা করলেন নাবিকরা
এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, রণতরির প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের অনেকেই পাঁচ দিনের সফরে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ায় সময় কাটান। কেউ কেনাকাটা করেছেন, কেউ ঘুরেছেন বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে। শহরের ব্যবসায়ীদের জন্যও তাদের আগমন ছিল বাড়তি আয়ের সুযোগ।
পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানান, মার্কিন নাবিকরা সফরকালে আনুমানিক ১০ কোটি থাই বাত (প্রায় ৩০ লাখ ডলার) খরচ করেছেন। রণতরীর জন্য টুথপেস্টসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কয়েক মিলিয়ন বাত আয় করেছেন।
মেয়র বলেন, অনেক নাবিক পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছেন এবং স্মারক সংগ্রহ করেছেন।
দুই নাবিকের হাতাহাতি
তবে পাঁচ দিনের সফর পুরোপুরি ঘটনাহীন ছিল না। বৃহস্পতিবার ভোরে পাতায়ার জনপ্রিয় নাইটলাইফ এলাকা ওয়াকিং স্ট্রিটের কাছে মদ্যপ অবস্থায় দুই মার্কিন নাবিকের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে তাদের রণতরিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় পুলিশ অবশ্য ঘটনাটিকে ছোটখাটো বিষয় হিসেবে দেখেছে। পাতায়া পুলিশের প্রধান আনেক শ্রাথংইউ বলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাকই হয়েছে।’ প্রথম দিনের ওই ঘটনা ছাড়া কোনো গ্রেপ্তার বা বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।
নাবিকদের আগমন ঘিরে পাতায়ায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। শহরের কর্তৃপক্ষ যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও মেয়র দাবি করেন, মার্কিন নাবিকদের সফরের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
দীর্ঘ মোতায়েনের পর বিরতি
পারমাণবিক শক্তিচালিত আব্রাহাম লিংকন সাধারণত ছয় থেকে নয় মাসের নৌ মোতায়েনের অংশ হিসেবে কাজ করে। তবে সংঘাতের সময় এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ ও সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিল রণতরিটি। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের দাবি, এটি আধুনিক সময়ে টানা সমুদ্রে থাকার ক্ষেত্রে একটি রেকর্ডও করেছে। পরে মধ্যপ্রাচ্যে এর স্থলাভিষিক্ত হয় ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরিটির নাবিকদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। গত মাসে কয়েকজন মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ ছিল, রণতরিতে খাবারের সংকট, নষ্ট প্লাম্বিং ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংকট দেখা দিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব উদ্বেগ নাকচ করে দিয়েছেন। তবে আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েনকে কেন্দ্র করে তার ইরানবিষয়ক যুদ্ধনীতি নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
