পুঠিয়ায় সারের দাবিতে দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ

পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও খুচরা বাজারে সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে পুঠিয়া উপজেলায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে মহাসড়কটিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

অনুমোদিত ডিলারদের দোকানে সার সংকট এবং খোলাবাজারে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে প্রতিবাদ জানাতে আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে বানেশ্বর বাজারে শতাধিক কৃষক সড়কে নেমে আসেন।

কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধানের জমিতে এখন সার দিতে হবে, কিন্তু স্থানীয় ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খুচরা দোকানে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে।

বানেশ্বর বাজারে একটি সার ডিলারের দোকানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

পুঠিয়ার বিরালদহ গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম (৪৫) বলেন, ‘এখন আমন ধানে সার দেওয়ার সময়। তিন দিন ধরে বানেশ্বর বাজারে আসছি। ডিলার বলছেন, সার নেই। কিন্তু বেশি টাকা দিলে খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত দামে সার না পেলে চাষাবাদ করেও আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।’

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫০) বলেন, ‘সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ১০টার দিকে ডিলার ওসমান আলী বললেন, সার শেষ। সার না পেলে আমরা কীভাবে ফসল ফলাব? সারের সিন্ডিকেট আমাদের পকেট কাটছে। আমরা এর বিচার চাই।’

পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অসাধু ডিলারদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভরত কৃষকরা।

তাদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে বাস ও ট্রাকসহ যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান তাদের আশ্বস্ত করেন, অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নির্ধারিত দামে দ্রুত সার সরবরাহ করা হবে।

ইউএনওর কাছ থেকে এমন আশ্বাস পেয়ে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন এবং সকাল সাড়ে ১১টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তবে স্থানীয় সার ডিলার এবং রাজশাহী জেলা সার ও কীটনাশক কমিটির সভাপতি ওসমান আলী অভিযোগ সার সংকট ও সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এখানে ইউরিয়ার কোনো সংকট নেই। আমার কাছে এখনো ৫১ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ১.৫ টন ডিএপি, প্রায় এক টন এমওপি এবং ১.৬৫ টন টিএসপি মজুত রয়েছে। মাসের শেষ দিকে ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সারের মজুত কিছু কম আছে।’

Related Articles

Latest Posts