কোচ ডুলির রাডারে যে পাঁচ প্রবাসী

হামজা চৌধুরী কিংবা শমিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা উন্নত ফুটবল সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলে এসে একটি মানদণ্ড তৈরি করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ফুটবলের হট সিটে বসে থমাস ডুলি আবারও নজর বাড়িয়েছেন প্রবাসী ফুটবলারদের দিকে। তবে নতুন এই প্রবাসীরা কতটুকু প্রস্তুত বা জাতীয় দলের সঙ্গে কতটা খাপ খাওয়াতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত তাদের প্রাথমিক ট্রায়ালে ডেকে সরাসরি পরখ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকার এমএলএস সিস্টেম থেকে শুরু করে ইংলিশ অ্যাকাডেমি ও জাপানি ফুটবলের আবহে বেড়ে ওঠা এই পাঁচ প্রবাসীর পটভূমি বিশ্লেষণ করা হল:

সাইফ কেরাওয়ালা (যুক্তরাষ্ট্র)

পজিশন: গোলরক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা সাইফ কেরাওয়ালা ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলার পাশাপাশি আমেরিকার মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সঙ্গে সম্পৃক্ত ডেভেলপমেন্ট সিস্টেমে (যেমন সিয়াটল সাউন্ডার্স ২) ফুটবলীয় শিক্ষা পেয়েছেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই গোলরক্ষকের শট-স্টপিং ও নিচ থেকে বল বাড়ানোর মৌলিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। তবে সিনিয়র পেশাদার ফুটবলের চাপ তিনি কতটা সামলাতে পারবেন, তা ট্রায়ালেই মূলত বোঝা যাবে।

ইউসুফ আহমেদ (ইংল্যান্ড)

পজিশন: উইঙ্গার / সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার

ইংলিশ ক্লাব বার্মিংহাম সিটির অ্যাকাডেমি স্কলারশিপ ও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে ইউসুফ আহমেদের। ইংলিশ অ্যাকাডেমি ফুটবলের শক্ত শারীরিক ও ট্যাকটিকাল কাঠামোর ভেতর দিয়ে তিনি উঠে এসেছেন। ওয়ান-অন-ওয়ান ড্রিবলিং বা উইং প্লেতে তার কিছু মৌলিক দক্ষতা রয়েছে, তবে জাতীয় দলের লেভেলে সেই পারফরম্যান্স ধারাবাহিক করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

ইয়াসার তাহমিদ (কানাডা)

পজিশন: সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার / মিডফিল্ডার

কানাডার যুব ফুটবলে সূচনা করার পর ইউরোপের নিচের দিকের লিগে রোমানিয়ার এক ক্লাবে খেলার সুযোগ পান ইয়াসার তাহমিদ। ৬ ফুট উচ্চতার এই ডিফেন্ডার ইউরোপিয়ান লোয়ার ডিভিশনের শারীরিক ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে কিছুটা পরিচিত। ডুলির প্রাথমিক হাই-প্রেসিং ধারণায় তার ফিটনেস কতটুকু সাড়া দেয়, তা বিচারে থাকবে।

দেবজিৎ সরকার (ইতালি)

পজিশন: সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার / ফুলব্যাক

ইতালির লোকাল ও অম্যাচিউর সার্কিটে খেলেই মূল পরিচিতি দেবজিৎ সরকারের। ডিফেন্সের পজিশনিং ও ট্যাকলিংয়ের ক্ষেত্রে ইতালীয় ঘরানার প্রাথমিক ধারণা তিনি পেয়েছেন। অম্যাচিউর লেভেলের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের পেস ও তীব্রতার সঙ্গে তিনি কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, ট্রায়ালে সেটাই হবে তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

শুকি ইতোফুসা (জাপান)

পজিশন: উইঙ্গার / অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার

হাফ-জাপানিজ ও হাফ-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শুকি ইতোফুসা জাপানের অ্যাকাডেমি, কান্তো/কিউশু ফুটবল লিগ এবং সম্প্রতি ফর্টিস এফসিতে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। জাপানি ফুটবলের প্রাথমিক টেকনিক্যাল স্কিল, ফার্স্ট টাচ ও দ্রুত পাসিং অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তিনি গেছেন। আক্রমণভাগে বিকল্প তৈরি করতে পারবেন কি না, তা ডুলির প্রত্যক্ষ মূল্যায়নের পরেই স্পষ্ট হবে।

ট্রায়ালের সময়টাই বলে দেবে এই পাঁচ প্রবাসীর কেউ জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডের গভীরতা বাড়ানোর যোগ্যতা রাখেন কি না, নাকি স্রেফ একটি ব্যর্থ পরীক্ষার তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন।

 

Related Articles

Latest Posts