স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই সহপাঠীর বাড়িতে গিয়ে কিছুক্ষণ খেলত সাত বছর বয়সী শিশুটি। এরপর বন্ধুর সঙ্গে খেলা শেষে চলে যেত স্কুলে।
গত বৃহস্পতিবারও যথারীতি ওই বাড়িতে যায় শিশুটি। কিন্তু এরপর আর ফিরে আসেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার স্কুলে যাওয়ার পথে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামে ওই সহপাঠীর বাড়িতে যায়। তার সহপাঠী তখন বাড়িতে ছিল না। সেখানে ছিলেন ওই সহপাঠীর বাবা জামিলুল ইসলাম।
পুলিশ আরও জানায়, ৩৩ বছর বয়সী জামিলুল ঘরের ভেতরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে একটি কক্ষের মাটির মেঝের নিচে মরদেহ পুঁতে রাখেন তিনি।
মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, জামিলুল আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় ভুক্তভোগী শিশুটি। প্রায় এক ঘণ্টা পর তার মা স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন, সে ক্লাসে যায়নি।
এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তায় আশপাশের পুকুর ও ড্রেনেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে তার পরিবার মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
পুলিশ জানায়, একটি তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত জামিলুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কক্ষের মেঝে খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জামিলুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তার স্ত্রীকেও আটক করা হয়। পরে রোববার জামিলুল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।
মামলায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।
শিশুটির মামা শামসুল হক বলেন, এত ছোট, নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে কেউ কীভাবে এমন নিষ্ঠুরতা করতে পারে? তাকে (জামিলুল) শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না। যত দ্রুত সম্ভব দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং হত্যার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
