‘ফেসবুকে আপত্তিকর, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করার অভিযোগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এই দাবি জানান তিনি। রুমিন ফারহানা নিজেও সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে লক্ষ্য করে ওই পোস্ট করেন।
চিঠিতে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা পদে অধিষ্ঠিত থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে আমাকে লক্ষ্য করে গত ১১ সেপ্টেম্বর অত্যন্ত আপত্তিকর, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ একটি স্ট্যাটাস প্রদান করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন দায়িত্বে থাকা সরকারি আইন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি, অশোভন, কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ কেবল একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার জন্য অপমানজনক নয়, বরং এটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পেশাদারত্বকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।’
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে, কোনো দলের নয়। রাষ্ট্রপক্ষের ডিএজির কাছ থেকে এ ধরনের ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার’ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চিঠিতে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
তবে চিঠিতে ছোটনের ফেসবুক পোস্টে ঠিক কী লেখা হয়েছিল, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রুমিন ফারহানার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে ডিএজির সঙ্গে কথা বলেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তিনি (ছোটন) আমাকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সম্প্রতি তিনি রুমিন ফারহানাকে নিয়ে একটি পুরোনো ভিডিও আপলোড করেছিলেন। রুমিন ফারহানা আগে বিএনপির একজন নেতা ছিলেন। ভিডিওটিতে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট শাসনামলে তিনি যে অসহায়ত্বের শিকার হয়েছিলেন তার বর্ণনা ছিল। ওই ভিডিওর সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘…আপনারা কত দ্রুত ভুলে গেলেন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ব্যক্তিগতভাবে আমি এটিকে নজরুল ইসলাম ছোটনের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের প্রয়োগ হিসেবে বিবেচনা করি। এই কার্যালয়ে দেওয়া অভিযোগটি তার কোনো পেশাগত বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে না এবং এটি এমন কোনো বিষয়ও নয়, যার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, তাই নজরুল ইসলাম ছোটনের ব্যাখ্যায় আমি সন্তুষ্ট। আমার মতে, এ ঘটনায় এই কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো ভিত্তি বা সুযোগ নেই।
