১৪ মাস পর ডলার বিক্রি শুরু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় ১৪ মাসের বেশি সময় পর আবারও মার্কিন ডলার বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখার পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা মেটাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল ছয়টি ব্যাংকের কাছে মোট ১১ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে প্রতি ডলারে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা। আগের দিন এই হার ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলেরও। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদাও কিছুটা বেড়েছে।

আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ০৫ ডলারে উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশের আমদানি ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এর বড় কারণ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। জুলাই মাসে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ব্যয় ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, জুলাইয়ে দেশের রপ্তানি আয় কিছুটা কমেছে। এ সময়ে রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ডলার বিক্রির সিদ্ধান্তে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তাদের নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। গত ১৪ মাসে বাজার থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপর চাপ কমে আসায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বাজারে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।

তিনি বলেন, ডলারের বিনিময় হার বাড়লে বা কমলে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ভালো অবস্থায় রয়েছে। এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।

Related Articles

Latest Posts