নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৪ রান—টি-টোয়েন্টি সংস্করণে যেকোনো দলের জন্যই এটি বিশাল ও বিধ্বংসী এক সংগ্রহ। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সাউদাম্পটনে এই রানের পাহাড় তুলে ম্যাচ ১১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়ার পর এবং দলের ব্যাটাররা ছক্কার বৃষ্টি ঝরানোর পরও ক্ষিদে মিটেনি ইংলিশ অধিনায়ক হারিং ব্রুকের। ম্যাচ শেষে অধিনায়কের কণ্ঠে উল্টো আক্ষেপ—টিম ইংল্যান্ড চাইলে নাকি আরও কয়েকটি রান বেশি তুলতে পারত!
দলীয় নৈপুণ্য ও নিজের সেঞ্চুরি উদযাপনের পাশাপাশি অধিনায়ক ব্রুক ম্যাচ শেষে চরম সমালোচকের চোখ দিয়ে মূল্যায়ন করেছেন নিজের দলের পারফরম্যান্স। তিনি বলেন, ‘দল যেভাবে খেলেছে তাতে আমি অত্যন্ত গর্বিত। তবে যদি আমরা চরম সমালোচকের দৃষ্টিতে দেখি, তবে হয়তো আরও কয়েকটা রান বেশি করা যেত কিংবা বোলিংয়ের শুরুতে আরও দু-একটি উইকেট নেওয়া যেত। তবে সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল প্রায় একটি নিখুঁত পারফরম্যান্স।’
অধিনায়কের এমন মন্তব্যের নেপথ্যে ছিল ম্যাচে তাদের ব্যাটিং তাণ্ডব। সাউদাম্পটনের ইউটিলিটা বোলে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান হ্যারি ব্রুক ও জস বাটলার। অধিনায়ক ব্রুক নিজে খেলেন ৪৯ বলে ১১৪ রানের বিধ্বংসী অপরাজিত ইনিংস। তার ব্যাটিংয়ে ছিল ১০টি চার ও ৬টি ছক্কার মার। অন্য প্রান্তে সাবেক অধিনায়ক জস বাটলার ৪৪ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলে শক্ত ভিত গড়ে দেন। দুই ব্যাটার মিলে মাত্র ৬০ বলে ১২৮ রানের বিশাল জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন।
বাটলারের সঙ্গে উইকেটে বোঝাপড়া ও রানিং বিটুইন দ্য উইকেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্রুক জানান, ‘সাউদাম্পটনে যখনই আমরা বড় রান তুলি, দেখা যায় জস (বাটলার) সেখানে থাকে। সে বরাবরের মতোই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে এবং মনে হচ্ছে নিজের সেরা ছন্দে ফিরে এসেছে। আমরা দুই রান নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলেছিলাম এবং আজ রাতে আমরা ২২টি ডাবল নিয়েছি, যা সত্যিই অসাধারণ।’
বোলিংয়ে পাওয়ারপ্লেতে তরুণ বোলার সনি বেকারের বিধ্বংসী স্পেলের প্রশংসা করতে ভোলেননি অধিনায়ক। ৪ ওভারে ১ মেইডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন বেকার। তরুণ বোলারের বোলিং নিয়ে ব্রুক বলেন, ‘বেকার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ভালো বোলিং করছে এবং সে সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল। পাওয়ারপ্লেতে টানা তিন ওভার বোলিং করা সহজ কাজ নয়। আমার মতে সে একটি অসাধারণ রাত কাটিয়েছে।’
ক্লান্তিকর সূচি থাকা সত্ত্বেও দলের মানসিক শক্তির প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন, ‘টেস্ট ম্যাচটি শেষ দিন পর্যন্ত গড়ালে আমাদের হাতে মাত্র একদিনের বিরতি থাকত, যা মোটেও আদর্শ সূচি নয়। তবে টেস্ট দ্রুত শেষ হওয়ায় আমরা দ্রুত এখানে এসে মানসিক প্রস্তুতি নিতে পেরেছি।’
২৫৫ রানের অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ইনিংস গুটায় মাত্র ১৩৫ রানে। ফলে ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতেই ১১৯ রানের রাজকীয় জয় নিশ্চিত করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
