মায়ামির হয়ে মেসির শততম গোল, নতুন ট্রফিতে উদযাপন

লিওনেল মেসির গোল ও অ্যাসিস্টে মেক্সিকান ক্লাব ক্রুজ আজুলকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ক্যাম্পিওনেস কাপের শিরোপা জিতেছে ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্স চ্যাম্পিয়নদের এই বার্ষিক লড়াইয়ে বুধবার রাতে জয়ের নায়ক সেই আর্জেন্টাইন মহাতারকাই।

মায়ামির হয়ে মেসির এটি ১০০তম গোল। দলটির হয়ে ঐতিহাসিক এই মাইলফলক স্পর্শ করার রাতে ক্লাবের ঝুলিতে উঠল প্রথম ক্যাম্পিওনেস কাপ। ম্যাচের শেষ দিকে মেসির নেওয়া কর্নার থেকেই দারুণ হেডে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন কাসেমিরো।

আর্জেন্টিনার হয়ে স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের ক্ষত এখনো তাজা। দুই মাস আগের সেই হতাশা ভুলে এ বছর প্রথম ট্রফির স্বাদ পেলেন মেসি।

মায়ামির নতুন প্রধান কোচ ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেসের জন্য সূচনাটা হলো অসাধারণ। গত মাসে দায়িত্ব পেলেও ভিসা জটিলতায় মাত্র চলতি সপ্তাহে অনুশীলনে নামতে পেরেছিলেন গঞ্জালেস। নতুন কোচের অধীনে প্রথম ম্যাচেই মিলল সাফল্য।

ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল ক্রুজ আজুলের। তবে হোসে পারাদেলার শট মায়ামির গোলরক্ষক ডেন সেন্ট ক্লেয়ার দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন।

২৪ মিনিটে আসে প্রথম সাফল্য। স্কোরারের নামটা মোটেও বিস্ময়কর ছিল না, তবে বিরল ছিল গোলের ধরন। লুইস সুয়ারেজের মাপা ক্রস থেকে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার মেসি শূন্যে লাফিয়ে অসাধারণ এক ডাইভিং হেডে বল জালে জড়ান।

৩২ মিনিটে সুয়ারেজ নিজেই তৈরি করেন ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ। মেসির ভাসানো দূরপাল্লার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন জার্মান বারতেরামের দিকে। কিন্তু বারতেরামের চিপ শট একদম গোললাইন থেকে ফেরায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুয়ারেজের থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢোকেন মেসি। পোস্টের ভেতরের কোনায় শট নিয়ে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে মেসির ১০১তম গোলটি বাতিল হয়।

৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরার বড় সুযোগ হাতছাড়া করে ক্রুজ আজুল। বদলি নামা গ্যাব্রিয়েল ফার্নান্দেসের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর ফিরতি শট আটকে দেন কাসেমিরো।

৮১ মিনিটে আবার মেসির চমক। তাঁর মাপা কর্নার কিক থেকে নিচু হেডে জাল খুঁজে নেন কাসেমিরো। ২-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মায়ামি।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পারাদেলার চমৎকার ফ্রি-কিক ঠেকিয়ে মায়ামির ক্লিনশিট বজায় রাখেন গোলরক্ষক সেন্ট ক্লেয়ার।

প্রতিবছর আয়োজিত এই ক্যাম্পিওনেস কাপে মুখোমুখি হয় আগের বছরের এমএলএস কাপ বিজয়ী এবং মেক্সিকোর ‘ক্যাম্পিওন দে ক্যাম্পিওনেস’ বিজয়ী দল। অষ্টম এই আসরটির আয়োজক ছিল নিয়ম অনুযায়ী এমএলএস দলই।

মায়ামির এই ট্রফি জয়ের আগে টানা তিন আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মেক্সিকোর ক্লাবগুলো। তবে মেক্সিকান জায়ান্ট ক্রুজ আজুলের জন্য এই ট্রফি অধরাই রয়ে গেল; ২০২১ সালের ফাইনালেও তারা একই ভাগ্য বরণ করেছিল।

 

Related Articles

Latest Posts