বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও দল নির্বাচন নিয়ে কড়া সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক সমালোচনা এবং অতিমাত্রায় প্রত্যাশা তৈরি করা প্রসঙ্গে সমর্থকদের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবাসী ফুটবলারদের জোয়ার আসায় বাংলাদেশের ফুটবলে উন্মাদনা বেড়েছে। বেড়েছে সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদও। তবে প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে অনেক সময় বাড়াবাড়াও দেখা গেছে।
কখনো প্রবাসী কোনো ফুটবলার স্কোয়াড থেকে বাদ পড়লে তীব্র সমালোচনার শিকার হন কোচ। এবারও কিছু প্রবাসী ফুটবলারের শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দলে ঠাঁই না পাওয়া ক্ষোভের জন্ম দেয়। যদিও কোচ বারবার বলে আসছেন, খেলার মান দেখেই দল নির্বাচন করবেন তিনি।
আসিয়ান কাপে যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় কোচ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু কিছু মানুষ ফুটবলের বাস্তবতা বুঝেন না।’
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান তুলে ধরে তিনি জানান, এই দলগুলোর খেলোয়াড়রা জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ইতালির মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগে নিয়মিত খেলেন। সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ডুলির মতে, ‘রাতারাতি কোনো উন্নতি সম্ভব নয় এবং একটি কোচিং স্টাফ মুহূর্তের মধ্যে কোনো দলকে বদলে দিতে পারে না। আপনি যদি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো এই অঞ্চলের দলগুলোর দিকে তাকান—আমাদের অবস্থান ১৮০ থেকে ১৫০ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে যেতে অন্তত দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। আমাদের কাছ থেকে এই দলগুলোকে সহজে হারিয়ে দেওয়ার আশা করাটা অবাস্তব।’
‘উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশিয়ার ছয় বা সাতজন ফুটবলার জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ইতালির শীর্ষ ইউরোপীয় লিগে খেলছে, যেখানে আমাদের সেই স্তরের কোনো খেলোয়াড়ই নেই। আমরা যখন মালয়েশিয়ার কাছে ২–০ গোলে হারি, তখন মানুষ দলের ওপর চড়াও হয়। খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। সমর্থকদের এবং সংবাদমাধ্যমের উচিত খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ ধ্বংস না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো ও সমর্থন করা।’
আসিয়ান কাপ খেলতে শনিবার রাতে জাকার্তা যাবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর ও ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবেন জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা।
