ইন্দোনেশিয়ায় জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের চোখ যে তার দিকেই থাকবে, তা ভালো করেই জানা আছে ফারহান আলী ওয়াহিদের। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখার আগে পাওয়া এই বাড়তি মনোযোগকে ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
চলতি বছরের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন ১৯ বছর বয়সী ফারহান। প্রিমিয়ার লিগের দল ফুলহ্যাম থেকে বর্তমানে ধারে ন্যাশনাল লিগের (ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলের পঞ্চম স্তর) দল বোরহ্যাম উডে খেলছেন তিনি।
আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপের জন্য প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ফারহান। ক্রীড়া বিষয়ক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডিএজেডএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গতকাল রোববার তিনি বলেন, ‘এটি ছিল দারুণ এক অনুভূতি। নিজের দেশ, নিজের জাতি ও নিজের শেকড়ের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। সমর্থকদের কাছ থেকেও প্রচুর ভালোবাসা পাচ্ছি, যা মাঠে নামতে আমাকে আরও উন্মুখ করে তুলছে।’
ইংলিশ ফুটবলে বয়সভিত্তিক ধাপগুলো পেরিয়ে আসার সময় থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়ে আসছেন ফারহান। এই প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘যে পরিমাণ সমর্থন আমি পাচ্ছি তা সত্যিই অসাধারণ। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন অনুভূতি পাওয়া আমার জন্য পরাবাস্তব। এটি আমাকে দেশের জন্য আরও কঠোর পরিশ্রম করার এবং ভালো খেলার অনুপ্রেরণা দেয়।’
গত বছর ফুলহ্যামের সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম পেশাদার চুক্তি সই করেন ফারহান। এরপর মূল দলে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যেই পুরো ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য ধারে বোরহ্যামে যোগ দিয়েছেন তিনি।
প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসিয়ান কাপের ‘এ’ গ্রুপে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরপর সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে উচ্ছ্বসিত ফারহান বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য আমি খুব রোমাঞ্চিত। আশা করি, আমরা সেখানে গিয়ে জয় পাব।’
দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রাইকার সমস্যায় ভোগা বাংলাদেশ দলের জন্য এই তরুণকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। বিশেষ করে ফারহানের ফিনিশিং দক্ষতার প্রশংসা করে গত সপ্তাহে ডুলি বলেন, ‘এই ছেলেটির (ফারহান আলী ওয়াহিদ) যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে পছন্দ, তা হলো সে ফিনিশিং করতে জানে। আমাদের জন্য এটি একদম উপযুক্ত।’
বাংলাদেশের ফুটবলারদের গোলপোস্টের সামনে সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করে ডুলি যোগ করেন, ‘আমি তাকে গোলপোস্টের সামনে দেখতে চাই, সঠিক পজিশনে গিয়ে লক্ষ্যে শট করতে দেখতে চাই— যা আমাদের অনেক ফুটবলারই করতে পারে না।’
তবে শুরুতেই ফারহানের ওপর কোনো বাড়তি বা অহেতুক চাপ তৈরি করতে চান না এই আমেরিকান কোচ, ‘আমরা তাকে এমন কোনো চাপে রাখছি না যে তাকে প্রথম দিন থেকেই দলের ত্রাণকর্তা হতে হবে। আমি তাকে একজন দক্ষ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবেই দেখি। পেশাদার ফুটবলের এই পর্যায়ে তাকে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। সে যদি তা পারে, তবে সে আমাদের জাতীয় দলের জন্য অনেক বড় সম্পদ হয়ে উঠবে।’
