জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতারা নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাদেরই একজন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
আগামীকাল বুধবার এই বার্ষিক অধিবেশনে ভাষণ দেবেন পেজেশকিয়ান। ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাত মাসের যুদ্ধে ইরানের জনগণের দুর্ভোগ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ইরান ছাড়ার আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘(এত কিছুর পরও) আমরা আমাদের মাথা উঁচু রাখতে পেরেছি। এটা আমাদের সবার জন্য মর্যাদা ও গর্বের বিষয়। আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে আমরা আমাদের এই দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরানের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে আমরা এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করব। আমরা আমাদের প্রতিপক্ষদের দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেব যে, সব ধরনের অন্যায় ও অবিচারের পরও ইরানের জনগণ তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে।’
ফেব্রুয়ারির শেষে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের সাত মাস পর এবারই প্রথম ইরানের কোনো সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানি প্রতিনিধিদলের কিছু সদস্যের জাতিসংঘ সফরের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্টের জনসংযোগ ও যোগাযোগ দপ্তরের কোনো সদস্য তার সফরসঙ্গী হতে পারেননি। তাদের ভিসা দেয়নি ওয়াশিংটন।
পেজেশকিয়ানের মুখপাত্র হাবিবুল্লাহ আব্বাসি এই আচরণকে ‘শত্রুতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন।
শুরুতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বধ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হলেও বর্তমানে এই সংঘাতের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগত দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করা।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ এই নৌপথে আনা-নেওয়া হতো।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরুর পরই হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান।
এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সংঘাত অবসানের কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।
