ঢাকার আশুলিয়ায় প্রিটি গ্রুপের প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানা চত্বরে কাভার্ড ভ্যানে মজুত রাখা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাত জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলায় দাহ্য পদার্থ অপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার আশুলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব। কারখানার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
৪ কারখানা আজও বন্ধ
বিস্ফোরণের পর গতকাল এক দিনের জন্য প্রিটি গ্রুপের চারটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কারখানাগুলো আজ খোলার কথা থাকলেও সেগুলো বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রিটি গ্রুপ কর্তৃপক্ষ কারখানার সামনে ছুটির নোটিশ টানিয়েছে।
বন্ধ রাখা কারখানাগুলো হলো প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, প্রিটি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড এবং এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড। এই চারটি কারখানা পাশাপাশি অবস্থিত।
কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় একই কম্পাউন্ডে অবস্থিত চারটি কারখানা ভবনের দরজা-জানালার কাচ ভেঙে গেছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলো বন্ধ রেখেছে।
এসপি বলেন, আজ কারখানার সামনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যায় প্রিটি গ্রুপের কারখানার পার্কিং এলাকায় সিএনজি গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী কাভার্ড ভ্যান ও লরিতে বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরিত সিলিন্ডারগুলো ছিটকে গিয়ে কারখানা ভবন, আশপাশের বাসাবাড়ি ও মার্কেটে আছড়ে পড়ে।
বিস্ফোরণে ছিটকে যাওয়া সিলিন্ডার ও ধাতব পদার্থের আঘাতে আশপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছিটকে যাওয়া সিলিন্ডারের আঘাতে দুজনসহ এ ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
