নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর অধীনে দায়ের করা কোনো মামলার বিচার নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ না হলেও বিচারকাজ স্থগিত করা যাবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র’ মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ আদেশে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।
পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট জানান, ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয় বরং নির্দেশনামূলক। কারণ, আইনটির ২০ ও ৩১(ক) ধারায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে এর কোনো পরিণতি বা শাস্তির বিধান রাখা হয়নি। তাই এ সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়।
২০২৩ সালের ৭ জুন মামলাটির রায় দেন বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জোর করে গর্ভপাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি পাভেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা।
একই বছর ২৩ জুলাই পাভেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১।
তবে, পাভেল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ২০১১ সালের ৮ মে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এটি ২০০০ সালের আইনের ৩১(ক) ধারার লঙ্ঘন।
এ অবস্থায় হাইকোর্ট মামলাটির বিচার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে ওই স্থগিতাদেশ সময় সময় বাড়ানো হয়।
পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ পর্যালোচনা করে ২০২৩ সালে রায় দেন আদালত।
রায়ে রিট আবেদনের পর জারি করা রুল খারিজ করে দেওয়া হয় এবং বিচার কার্যক্রমের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।
এর ফলে ২০০৮ সালে পাভেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম চলতে আর কোনো বাধা নেই।
পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালকে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অনুযায়ী, শ্যামপুর থানায় করা ওই মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
