ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের দারুণ জয়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ভিতিনিয়ার নাম। অবশেষে মাঝমাঠে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়ে গোল করেছেন। একইসঙ্গে ম্যাচ শেষে ভিতিনিয়ার কথাতেই উঠে এসেছে কোচ জর্জ জেসুসের প্রভাব। পর্তুগালের নতুন কোচের কাজ যে ধীরে ধীরে ফল দিতে শুরু করেছে, সেটিই যেন স্পষ্ট করে দিলেন পিএসজির এই মিডফিল্ডার।
পর্তুগালের জার্সিতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভিতিনিয়া কেন আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারছেন না, তা নিয়ে এতদিন প্রশ্ন ছিল। বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচিত এই খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে সেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছিলেন না। তবে ডেনমার্কের বিপক্ষে সেই চিত্র যেন বদলে গেল। একাদশে ফিরেই দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনো ফার্নান্দেসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে পর্তুগালকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম গোল।
‘দেরিতে হলেও ভালো। তার ওপর আবার হেডে গোল,’ ম্যাচের পর নিজের গোল নিয়ে এমনভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান ভিতিনিয়া। ডেনমার্কের বিপক্ষে ৯০ শতাংশ পাস সাফল্য নিয়ে মাঠে নিজের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। তার নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকরী মাঝমাঠের পারফরম্যান্সে উজ্জীবিত হয় পুরো পর্তুগাল দল।
ম্যাচ শেষে আরটিপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন কোচ জর্জ জেসুসের কাজেরও প্রশংসা করেন ভিতিনিয়া, ‘কোচের কাজ ফল দিতে শুরু করেছে, সেটা এখন দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হয়, আমি হয়তো একটু বেশিই পরিষ্কার করে বলে ফেললাম। সৌভাগ্যক্রমে সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’
এরপর সমর্থকদের জন্যও বিশেষ বার্তা দেন পিএসজির এই তারকা। নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যদি এস্তাদিও দো দ্রাগাও ভরিয়ে দেন এবং নরওয়েকে ৪-০ গোলে হারাতে পারেন, তাহলে সেটিই হবে নিখুঁত দৃশ্য।
অবশ্য ম্যাচের আগে ও পরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অনুপস্থিতি। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ম্যাচের আগের দিন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান পর্তুগিজ অধিনায়ক। তবে সেই ঘটনা মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে দেননি খেলোয়াড়েরা। ভিতিনিয়ার ভাষায়, ‘আমরা ম্যাচের দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং সেটা করতে পেরেছি। আমার মনে হয়, আমরা দারুণভাবে জবাব দিয়েছি। পুরো দলকে অভিনন্দন জানাই।’
দলের ভেতরের ঐক্যের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি, ‘দলের মধ্যে যে স্পিরিট রয়েছে, তা অসাধারণ। সত্যি বলতে, এমন পরিবেশ থাকলে টেকনিক্যাল দিক থেকে সবকিছু ঠিকঠাক না হলেও জয় অনেক কাছাকাছি চলে আসে।’
