যুক্তরাজ্যে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে লিটারপ্রতি ২ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২৬ টাকা) হয়েছে, যা একটি নতুন রেকর্ড।
আজ শুক্রবার যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দেশটির পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের তুলনায় ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলের অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং পুরো বিশ্বের ওপর এর প্রভাব পড়ে।
যুক্তরাজ্যে গাড়ির বিমা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আরএসি মোটরিং সার্ভিসেস জানিয়েছে, ডিজেলের গড় দাম লিটারপ্রতি ২ পাউন্ড ছাড়িয়েছে। ফলে একটি সাধারণ পারিবারিক গাড়ির ট্যাংক ভরতে এখন খরচ হচ্ছে ১১০ পাউন্ড (প্রায় ১৭ হাজার ৯৩০ টাকা), যা ইরান যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৩২ পাউন্ড বেশি।
আরএসির হিসাবে এটি জ্বালানির গড় দাম। তবে বাস্তবে অনেক পেট্রোল পাম্পে বেশ কিছুদিন ধরেই লিটারপ্রতি ২ পাউন্ডের বেশি দামে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। পেট্রোলের দামও বাড়ছে। বর্তমানে এক লিটার পেট্রোলের গড় দাম ১ পাউন্ড ৭৪ পেনি (প্রায় ২৮৪ টাকা), যা ২৮ ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাজ্যে যে পরিমাণ ডিজেল ব্যবহার হয়, তার প্রায় ৩০ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং বাকিটা ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিলে যুক্তরাজ্যে তেল না পাওয়ার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আজ দিনের শুরুতে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী কিয়ার মেদার সেই আতঙ্ক প্রশমিত করার চেষ্টায় বলেন, যুক্তরাজ্যে ডিজেলের ঘাটতি দেখা দেয়নি।
স্কাই নিউজের অর্থনীতি ও ডেটা সম্পাদক এড কনওয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জরুরি ডিজেল মজুত দিয়ে দেশটির আমদানির চাহিদা প্রায় ৪২ দিন মেটানো সম্ভব।
জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটির গাড়িচালক ও ছোট ব্যবসার মালিকরা আর্থিক চাপে পড়েছেন।
আরএসির নীতিবিষয়ক প্রধান উইলিয়ামস বলেন, ‘যেসব পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে অনেক দূর গাড়ি চালাতে হয়, তাদের জন্য এটি খুবই কঠিন হবে। এর মধ্যে কর্মী, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বড় গাড়ির বহর পরিচালনাকারী ব্যবসা থেকে শুরু করে ছোট উদ্যোক্তারাও রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘পরিহাসের বিষয় হলো, একসময় ডিজেলচালিত গাড়িকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মনে করা হতো। অথচ এখন এসব গাড়িই বাড়তি খরচের চাপ তৈরি করছে।’
ইরান যুদ্ধ এবং তারও আগে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারগুলোর উৎপাদন ব্যাপক কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে দাম ব্যাপক হারে বাড়ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট ডিজেল সরবরাহের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। এ ছাড়া বিশ্বের মোট ডিজেল সরবরাহের আরও ১০ শতাংশ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রণালিটিতে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পর এই সরবরাহও ব্যাহত হয়।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্নওয়াল ইনসাইটের হিসাবে, দেশটির পরিবারগুলোর বার্ষিক জ্বালানি খরচ আরও ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ মিলিয়ে তাদের গড় বার্ষিক খরচ ২৭৬ পাউন্ড বেড়ে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৭ টাকা) হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। আর পেট্রোলের নতুন দাম প্রতি লিটার ১৬০ টাকা ও অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা করা হয়েছে।
