,

বেনজির বিক্ষোভ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাস

এক অন্যরকম বিক্ষোভের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। নানা কর্মসূচি। দাবি কোটা সংস্কারের। রোববার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগে অবস্থান। যদিও এটা অন্য এক শাহবাগ।

বাধা দেয়ার চেষ্টা পুলিশের। সন্ধ্যা নামতে নামতে অ্যাকশন। শাহবাগের দখল ছাড়লেও ক্যাম্পাসের দখল ছাড়েননি বিক্ষোভকারীরা। তাদের ওপর নির্বিচারে টিয়ার শেল আর রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পাল্টা জবাব দেয়  বিক্ষোভকারীরা। মিনিট বা ঘণ্টার ছবি এটি নয়। এ দৃশ্য পুরো রাতের। আতঙ্ক জাগানিয়া এক রাত। বেনজির সংঘর্ষ। নানা গুজব। দৃশ্যপটে আবির্ভাব ছাত্রলীগের। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা। কোনো কিছুতেই টলানো যায়নি তাদের। গভীর রাতে শ’ শ’ ছাত্রী যোগ দেন বিক্ষোভে। যে দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি। ঢাবি ভিসির বাসাতেও হয় নজিরবিহীন হামলা। রাতভর সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ আহত হন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তারের শিকার হন অনেকে।

আতঙ্ক, উত্তেজনা আর সংঘর্ষের রাতের পর নতুন সূর্য। পুলিশের অ্যাকশনে কিছুটা বিরতি। ফের আন্দোলনকারীদের দখলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সকাল সকাল এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলাদেশে। ক্যাম্পাস থেকে ক্যাম্পাস। তারুণ্যের প্রতিবাদ। বড় বড় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই যোগ দিয়েছেন এ বিক্ষোভে। ক্ষমতাসীনদের টানা প্রায় দশ বছরের মেয়াদে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। বিকালে আন্দোলনকারীদের ডাক পড়ে সচিবালয়ে। তাদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নেতারা। বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ থেকে বলা হয়, কোটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান মামুন এক মাসের জন্য কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানান। কিন্তু রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা সেটা মানতে নারাজ। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছিলেন তারা।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাসে আন্দোলন ৭ই মে পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা বৈঠককারীদের: বিকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সরকারের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সচিবালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্দোলনকারীদের প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠক শেষে সরকার পক্ষের নেতৃত্বদানকারী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার রিজিট অবস্থানে নেই। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি। তাদের দাবির যৌক্তিকতা আমরা ইতিবাচক ভাবেই দেখবো। মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সরকার রিভিউ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। রেজাল্ট কী আসে আমরা সেটা জানিয়ে দেবো। তারা কথা দিয়েছেন, ওই পর্যন্ত তারা তাদের চলমান আন্দোলন স্থগিত রাখবেন। ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন কোটা সংস্কারের বিষয়টি আমলে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কোটাব্যবস্থা সংস্কারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যৌক্তিক সংস্কার করার জন্য জনপ্রশাসন সচিবকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এ সংস্কার আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ছাত্রছাত্রীদের জানিয়ে দেয়া হবে। তাই আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ আন্দোলন স্থগিত করা হলো। কোটা সংস্কারের বিষয়টি আমলে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। আটক ও আহতদের সম্পর্কে তিনি বলেন এখন পর্যন্ত আমার যে ভাইবোনেরা গ্রেপ্তার হয়েছেন সকলকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে।

পাশাপাশি যারা আহত হয়েছেন তদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোববার রাতে সংঘাত চলাকালে উপাচার্যের বাসভবনে তাণ্ডবের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ‘শাস্তি পেতে হবে’ বলে সভা শেষে জানিয়ে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমি ব্রাইট অ্যান্ড ব্রিলিয়ান্ট তরুণদের কাছে জানতে চেয়েছি, কোটা সংস্কারের সঙ্গে ভিসি কীভাবে জড়িত? তিনি আর তার পরিবার কেন আক্রান্ত হবে?… তারা একমত। তারা বলেছে, এর মধ্যে অনুপ্রবেশকারী বহিরাগত সন্ত্রাসী থাকতে পারে। আমি পুলিশ কমিশনারকে বলেছি, নিরীহ কাউকে যেন ধরা না হয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে এ কাজটি করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব- উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে মামুনের নেতৃত্বে বৈঠকে পরিষদের ২০ সদস্যের মধ্যে কানিজ ফাতেমা, আফসানা সাফা, একরামুল হক, আল ইমরান হোসাইন, লীনা মিত্র, আরজিনা হাসান, লুবনা জাহান প্রমুখ ছিলেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকার পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে পাঁচ জন বক্তব্য রাখেন। তারা কোটা পদ্ধতি কেন সংস্কার করা হবে তার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এর বিপরীতে সরকার পক্ষের প্রতিনিধিরা চুপচাপ ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের কাছে লিফলেট দেন আন্দোলনকারীরা। ওই লিফলেটে তাদের পাঁচ দফা দাবির কথা উল্লেখ করা হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ না দেয়া, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ না দেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাট মার্কস ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা ও কোটায় যোগ্যপ্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধায় নিয়োগ দেয়া।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা: সচিবালয়ে বৈঠকের পর সন্ধ্যা সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থানে ফিরে আসেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এসময় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই মাসে দুইবার বিদেশ সফরে যাবেন। যে কারণে আগামী মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। তখন শিক্ষার্থীরা মানি না, মানি না বলে চিৎকার করতে থাকেন। তখন মামুন বলেন, আমরা পরিস্থিতির  প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে  বৈঠকে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যান। রাত আটটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বাংলা একাডেমির সামনে অবস্থান নেয়। পাশেই তিন নেতার মাজার এলাকায় ছিল পুলিশের অবস্থান। শিক্ষার্থীদের অন্য অংশ রোকেয়া হলের সামনে অবস্থান নেয়। বিপরীত পাশে লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের  নেতাকর্মীরা।

দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা রাতে দফায় দফায় টিএসসি এলাকায় মিছিল করেন। তাদের হাতে লাঠিসোটাও দেখা যায়। আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রাতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। রাতে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন সরকারের তরফে দিন তারিখ দিয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এদিকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি ঘোষণা করে অবস্থান ছেড়ে দেন। তারা আগের কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে নতুন আহ্বায়কের নাম ঘোষণা করেন। তারা জানান, এখন সাধারণ শিক্ষার্থী বিপাশা চৌধুরী কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন। আজ রাজু ভাস্কর্যের পাশে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি দাবি মানা না হলে ১৬ই এপ্রিল ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

বিক্ষোভে উত্তাল দেশ: কোটা সংস্কারের দাবিতে গতকালও উত্তাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্থানে সড়ক- মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। রাতভর সংঘর্ষ, বিক্ষোভের পর গতকাল ভোর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। বেলা পৌনে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে দেখা যায়, ব্যাপক সংখ্যক র‌্যাব-পুলিশের সতর্ক উপস্থিতি। প্রস্তুত দাঙ্গা পুলিশ। সঙ্গে জলকামান ও সাঁজোয়া যান। অপেক্ষমাণ বেশকিছু পুলিশ ভ্যান। র‌্যাবের গাড়ি। তাদের একটা অংশ যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যস্ত। আর বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন দিক থেকে শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে ক্যাম্পাসের দিকে এগুতে থাকেন। বেলা ১১টার দিকে ঢাবির টিএসসি মোড়ে দেখা যায়, সেখানেও ব্যাপক পুলিশ সদস্যদের জমায়েত।

সঙ্গে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁজোয়া যান। বেলা ১১টার পর সহস্রাধিক আন্দোলনকারী বিক্ষোভ শুরু করে। বেলা পৌনে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের মিছিলটি শাহবাগের দিকে যাত্রা শুরু করে। তখন তাদের স্লোগান ছিল ‘কোটা কোটা, সংস্কার সংস্কার। আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না।’ মিছিলটি ১১টা ৫০ মিনিটে পৌঁছে শাহবাগ মোড়ের কাছে। শাহবাগ থানার প্রধান ফটকের কাছে রাস্তায় আগে থেকে পুলিশ সদস্যরা পথ আগলে দাঁড়ান। পুলিশি বাধার মুখে পড়ে মিছিলটি আবার ক্যাম্পাসের দিকে ফিরে আসে। সেখান থেকে টিএসসি মোড়ে রাজু ভাস্কর্যের পাশ দিয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে এগোতে থাকে। দোয়েল চত্বর হয়ে প্রবেশ করে ঢাবির ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে। সামনে দিয়ে প্রবেশ করে অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে আবার দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যায়। সেখান থেকে পলাশী মোড় হয়ে যায় আজিমপুর মোড়ে। এরপর নীলক্ষেত মোড় হয়ে আবার শাহবাগ মোড়ে। এ সময় মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে যায়।

পরে আবার গিয়ে পৌঁছে শাহবাগ মোড়ে। শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ আবার টিএসসির সামনে রাজু ভাস্কর্যের সামনে হাজির হয়। বিক্ষোভ করতে থাকে। তখনও তাদের অপর একটি ছোট অংশ শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পুলিশ তাদের ঘিরে রাখে। পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে তারা বেশ কিছুক্ষণ মিছিল-স্লোগান দেয়। দুপুর সোয়া ১টার পর তারাও গিয়ে আবার টিএসসিতে যোগ দেয়। টিএসসিতে আগে থেকেই পুলিশের অবস্থান ছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশ যাতে সরে যায় সেজন্য বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোঁড়া হলে টিএসসি এলাকা ছাড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিক্ষোভের মুখে পুলিশ সেখান থেকে দূরে সরে যায়। রাজু ভাস্কর্যের মোড়ে চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের স্লোগান। বেলা ২টার পর বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে বেশ কিছু ছাত্রী সমাবেশে যোগ দেন।

এদিকে বেলা দু’টার পর আন্দোলনকারীদের এক প্রতিনিধি দল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। অন্যদিকে তারা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সঙ্গে সংযুক্ত চারটি সড়কে ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান।

আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান মানবজমিনকে বলেন, ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীর দাবি হলো কোটা বাতিল করা। আমরা অহিংস পদ্ধতিতে সে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। গত রোববার পর্যন্ত আমরা ৬টি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করি। আমরা রোববার শাহবাগে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের মেসেজটি পৌঁছাতে চেয়েছি। কিন্তু প্রথম থেকে আমাদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ষড়যন্ত্রকারীরা গত রাতে ভিসি চত্বরে গিয়ে আগুন দেয় ও ভাঙচুর করে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, রোববার আন্দোলনে গণপদযাত্রার অংশ হিসেবে আমরা শাহবাগে অবস্থান নিই। কিন্তু রাতে পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। গুলি, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে ২১৭ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন ছাত্রী। পুলিশি হামলা থেকে আত্মরক্ষার্থে শিক্ষার্থীরা ঢাবির বিভিন্ন স্থাপনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ে। সেখানে ঢুকে তাদেরকে মারধর করেছে পুলিশ। অথচ আমাদের দেশের ৯৫ ভাগ মানুষের সমর্থন আছে কোটাবিরোধী এই আন্দোলনে।

চিকিৎসা নিয়েছেন আহত ১৮০ শিক্ষার্থী: গত রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশের হামলায় ২১৭ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় ১৬৩ শিক্ষার্থীকে। গতকাল বিকাল নাগাদ তাদের মধ্যে ১৬২ জনই চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন। তাদের আঘাত ছিল হালকা ও মাঝারি। তাদের সবাই ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। আহতদের মধ্যে বাকি দু’জন আসিকুর রহমান ও সাকিল ঢামেকে জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালিটি ইউনিটে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাদের অবস্থাও গুরুতর নয় বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *