বাংলাদেশের সংগীত জগতে খুরশীদ আলম এক অতি পরিচিত নাম। খ্যাতিমান এই শিল্পী ছয় দশক ধরে গানের জগতে বিচরণ করছেন। অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে তার, যেগুলোর বেশিরভাগই সিনেমার গান। গানে অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছেন একুশে পদক।
সংগীতে দীর্ঘ পথচলা প্রসঙ্গে খুরশীদ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দেখতে দেখতে গানের জগতে পথচলার ৬০ বছর হয়ে গেল। মাঝে মাঝে ভাবলে নিজেই বিস্মিত হই যে, যেন এক পলকেই চলে গেল এতটা বছর।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বাংলা গানের স্বর্ণযুগের শুরু যখন, সেই সময় থেকে আমি গান গাওয়া শুরু করতে পেরেছিলাম। আমার কণ্ঠে বেশ কিছু জনপ্রিয় গান হয়েছে, যা বাংলাদেশের গানপ্রেমী শ্রোতারা এখনো শোনেন। পথেঘাটে চলতে-ফিরতে এখনো মানুষ আমার প্রতি যে ভালোবাসা প্রদর্শন করেন, যে সম্মান দেখান, তাতে সত্যিই মুগ্ধ হই। বাংলা গানের শ্রোতাদের প্রতি আমার আন্তরিক ভালোবাসা।’
সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন খুরশীদ আলম। তার গাওয়া বহু গান এখনো মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।
সিনেমায় তিনি প্রথম প্লেব্যাক করেন ১৯৬৯ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ সিনেমায়। ‘বন্দী পাখির মতো’ শিরোনামের ওই গানটির সুর ও সংগীত করেছিলেন আজাদ রহমান।
কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর কণ্ঠে আলোচিত সিনেমার গানের মধ্যে রয়েছে ‘আজকে না হয় ভালোবাসো, আর কোনো দিন নয়’। ‘মিন্টু আমার নাম’ সিনেমার এই গানটির কথা লিখেছেন দেওয়ান নজরুল। এই গানের সুরকার আলম খান।
‘চুমকি চলেছে একা পথে’ দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমার গান। এই গানের সুরকারও আলম খান। ‘ও দুটি নয়নে’ গানটি ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ সিনেমার গান। এই গানের কথা লিখেছেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। আর গানটির সুরকার ছিলেন আলী হোসেন।
তার কণ্ঠে দর্শকপ্রিয় অন্যান্য সিনেমার গানের মধ্যে রয়েছে—‘চুরি করেছ আমার মনটা’, ‘মাগো মা ওগো মা’, ‘বাপের চোখের মণি নয়’, ‘ধীরে ধীরে চল ঘোড়া’, এই আকাশকে সাক্ষী রেখে’, ‘পাখির বাসার মতো দুটি চোখ তোমার’ ইত্যাদি।
১৯৪৬ সালে জয়পুরহাটে জন্মগ্রহণ করেন খুরশীদ আলম। সিনেমা ও আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে খ্যাতি পেলেও তার গানের শুরুটা হয়েছিল রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে। ১৯৬৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে অডিশন দেন তিনি। অডিশন বোর্ডে ছিলেন আবদুল আহাদ, ফেরদৌসী রহমান ও সমর দাস। সেখানে রেডিওর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে তার গাওয়া প্রথম দুটি গান হলো—‘তোমার দু হাত ছুঁয়ে শপথ নিলাম’ ও ‘চঞ্চল দু নয়নে বলো না’।
বাংলা গানে কিছু কণ্ঠ সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না। এর মধ্যে বদলে গেছে দেশের সংগীতাঙ্গন, চলচ্চিত্রের ভাষা এবং শ্রোতার পছন্দ। অনেক শিল্পী সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছেন। কেউ কেউ শুধুই স্মৃতি হয়ে আছেন। কিন্তু খুরশীদ আলমের কণ্ঠ এখনো শ্রোতার কাছে পরিচিত। আজও তার কণ্ঠে গানগুলো চিরনতুন মনে হয়।
