বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত: সেই কিশোরের জামিন দ্বিতীয়বারের মতো নামঞ্জুর

রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদন দ্বিতীয়বারের মতো নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

সড়ক পরিবহন আইনের মামলায় আজ বুধবার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আবদুল মোক্তাদির এ আদেশ দেন।

এর আগে, গত ৪ অক্টোবর আদালত ওই কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ১ নম্বর রোডের ফুটপাতে বসেছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী, তখন গাড়িটি দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে তাকে আঘাত করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনাদাড়া গ্রামের বাসিন্দা মেহেদীকে স্থানীয়রা গাড়ির নিচ থেকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও-লেভেলের শিক্ষার্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর ওই কিশোর চালকের আসন থেকে বের হয়ে আসছে।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম মামলা করেন। ঘটনাস্থল থেকে আটক হওয়া সত্ত্বেও মামলায় ওই কিশোরের নাম ছিল না। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ২৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করে।

২৪ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরেফিন ইসলাম ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করে আটক রাখার আবেদন জানালে আদালত তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সেদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন জানিয়েছিলেন, ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং পরবর্তী জামিন শুনানির সময় আদালতে আপসনামাটি জমা দেওয়া হবে।

আপসনামায় উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনার সময় আকাশ মারাক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং ওই কিশোর গাড়ির ভেতরে ছিল।

নথিতে লেখা ছিল, ওই কিশোরের পরিবার নিহতের দাফন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য ১ লাখ টাকা এবং তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাতে আরও ৮ লাখ টাকা নগদ দিয়েছে।

আইনজীবী আলমগীর এর আগে জানিয়েছিলেন, নিহতের পরিবার আত্মীয়স্বজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে কিশোরের পরিবারের কাছ থেকে মোট ৯ লাখ টাকা নিয়েছে এবং পরে আপসনামা করেছে।

তবে আদালতে দাখিল করা পুলিশের ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

এতে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, ঘটনার পরপর ওই কিশোর, যাকে রিপোর্টে ‘আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, সে গাড়ির ডান দিকে চালকের দরজা খুলে বেরিয়ে আসছে।

ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে বলা হয়েছে, তদন্তকালে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে, যা ঘটনার সঙ্গে কিশোরের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

আজকের দিন পর্যন্ত আকাশ আত্মগোপনে রয়েছেন।

Related Articles

Latest Posts