তুরস্কের দর্শকপ্রিয় ‘হাল্ক টিভি’র নিয়ন্ত্রণ নিল সরকার

তুরস্কের সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয় সংবাদ চ্যানেল ‘হাল্ক টিভি’র দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সম্প্রচার বন্ধ করে চ্যানেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারের নিয়োগ করা একজন প্রশাসকের হাতে।

আজ বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দর্শক সংখ্যার দিক থেকে তুরস্কের মধ্যে ‘হাল্ক টিভি’ সবচেয়ে এগিয়ে। আজ ভোরে ওই টিভি চ্যানেলের দপ্তরে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় টিভিটির সরাসরি সম্প্রচার ও ইউটিউব সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া, পুলিশ কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে চ্যানেলটির চেয়ারম্যান জাফের মাহিরোগলুর পরিবারের সাত সদস্য এবং একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

এ ঘটনাকে ‘তুরস্কের জন্য একটি অন্ধকার দিন’ বলে বর্ণনা করেছেন মাহিরোগলু।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চ্যানেলের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় বলা হয়, ‘হাল্ক টিভির সদর দপ্তরে পুলিশের অভিযান! একজন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে এবং সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তার সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সর্বশেষ উদাহরণ এটি।

দুই সপ্তাহ আগে ‘এলজিবিটি প্রচারণার’ অভিযোগ তুলে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম টিটোয়েন্টিফোরের (টি২৪) ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় দেশটির সরকার।

কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। মাহিরোগলুর বিরুদ্ধে ঘুষ, দরপত্রে কারসাজি ও অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এএফপির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আজ ভোরের আলো ফোটার পর হাল্ক টিভির সদর দপ্তরের বাইরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই কর্মী ও সাংবাদিকরা জড়ো হন। ভবনটির বাইরে ঢাল হাতে শত শত দাঙ্গা পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে কর্মীদের ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ঘটনাকে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নির্মম আঘাত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এটি ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর হামলা’।

এরদোয়ানের সমালোচনার কারণে তুরস্কের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেশ কয়েকবার হাল্ক টিভির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। গত বছর চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

২০২৫ সালে সরকারের সমালোচনার কারণে আরেক টেলিভিশন চ্যানেল টেলি১-এর নিয়ন্ত্রণও নেয় দেশটির সরকার। চ্যানেলটি এখনো চালু থাকলেও সমালোচনামূলক অবস্থান কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts