বাংলাদেশকে সামলাতে স্পিন শক্তি বাড়াচ্ছে ইংল্যান্ড

বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলতে এসে শুধু স্পিনারদের সামলানোর প্রস্তুতি নিলেই এখন আর চলে না। বাংলাদেশের পেসাররাও যে প্রতিপক্ষের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারেন, সেটি ভালোভাবেই জানে ইংল্যান্ড। তাই আগামী ফেব্রুয়ারিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার আগে নিজেদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না ইংলিশরা। বিশেষ করে উপমহাদেশের কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে স্পিন আক্রমণে আরও বৈচিত্র্য ও গভীরতা আনতে কাজ শুরু করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

বাংলাদেশকে এখন আর সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচক মার্কাস নর্থ। তার চোখে বাংলাদেশ যথেষ্ট শক্তিশালী টেস্ট দল। এই সফরে ভালো করতে হলে শুধু সেরা একাদশ বেছে নিলেই হবে না, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত বিকল্পও রাখতে হবে স্কোয়াডে।

বাংলাদেশের শক্তিমত্তা নিয়ে নর্থ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন ভালো ক্রিকেট দল, ভালো টেস্ট দল। সেখানে গিয়ে শুধু ভালো স্পিনারদের মোকাবিলা করতে হবে, ব্যাপারটা এমন নয়। ওদের বেশ কয়েকজন খুব ভালো পেসারও আছে। তাই আমরা জানি, সফরটা আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। এমন একটি স্কোয়াড দরকার, যাতে ওই কন্ডিশনে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ থাকে।’

বাংলাদেশ সফরের আগে ইংল্যান্ডের স্পিন বোলিং নিয়ে নতুন করে ভাবনার আভাস মিলেছে রিচার্ড ডসনের নিয়োগেও। স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নতুন সহকারী কোচদের একজন হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ইংল্যান্ডের স্পিন বোলিং কার্যক্রমের প্রধানের দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি।

গত কয়েক বছর পেস বোলিংয়ের শক্তি বাড়াতে বেশ মনোযোগ দিয়েছে ইংল্যান্ড। এবার একইভাবে স্পিনারদেরও গড়ে তুলতে চায় তারা। নর্থের কথায়, ‘পেস বোলিং নিয়ে আমাদের যেমন একটি প্রকল্প ছিল, এখন তেমনি বেশ কয়েকজন স্পিনারও উঠে এসেছে, যাদের পেছনে আমরা বিনিয়োগ করতে পারি। আমরা স্পিন বিভাগে এমন গভীরতা চাই, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী কোন ধরনের বোলার নেওয়া উচিত এবং দলের ভারসাম্য কেমন হবে, তা নিয়ে ভালোভাবে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’

অবশ্য স্পিনারদের নিয়ে ইংল্যান্ডের এই নতুন পরিকল্পনা সামনে এসেছে কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে। বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর প্রথম সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। অথচ সেই সিরিজে কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনারই খেলায়নি তারা। স্পিন বোলিংয়ের দায়িত্ব সামলেছেন মূলত ড্যান লরেন্স ও জো রুট। শোয়েব বশির ছিলেন দ্বাদশ খেলোয়াড়।

আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও একই কৌশল ধরে রাখতে পারে ইংল্যান্ড। তবে বাংলাদেশের কন্ডিশনে সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে নির্বাচকদের। ফলে বাংলাদেশ সফরই হয়ে উঠতে পারে ইংল্যান্ডের নতুন স্পিন পরিকল্পনার বড় পরীক্ষা।

এর মধ্যে দল নির্বাচনে আরেকটি কঠিন সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ডের সামনে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ব্যাটিং লাইনআপও চূড়ান্ত করতে হবে নির্বাচকদের। হাঁটুর চোট কাটিয়ে জ্যাকব বেথেল কতটা সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করছে এমিলিও গে, জর্ডান কক্স ও ড্যান লরেন্সের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি।

এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নর্থ। তার ভাষায়, ‘সিদ্ধান্তটা কঠিন হবে। তবে আমরা এমন পরিস্থিতিই চাই, যেখানে দল নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

এদিকে ইংল্যান্ডের স্পিন শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনায় আপাতত জায়গা হচ্ছে না অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচের। কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করেও জাতীয় দলে ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ইংল্যান্ডের জার্সিতে টেস্ট খেলেছিলেন লিচ। এরপর আর জাতীয় দলে ডাক পাননি। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্সে ভাটা পড়েনি। গত দুই মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম বিভাগে সমারসেটের হয়ে ২১.৭৩ গড়ে নিয়েছেন ৮৮ উইকেট। এই সময়ে প্রতিযোগিতাটির অন্যতম সফল বোলারও ছিলেন তিনি।

এমন পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে লিচের ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু ইংল্যান্ডের নির্বাচকদের ভাবনা আপাতত অন্যদিকে। অভিজ্ঞ এই স্পিনারকে ফেরানোর চেয়ে তরুণদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজাতেই বেশি আগ্রহী তারা।

২০২৬-২৭ মৌসুমে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা স্পিনারদের মধ্যে আছেন শোয়েব বশির ও রেহান আহমেদ। আর বিশেষ চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন ম্যাসন ক্রেন, জেমস কোলস ও লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট।

উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে লিচের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল নর্থকে। সেখানে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা তাকে দেখেছি। সমারসেটের হয়েও সে দুর্দান্ত পারফর্ম করে যাচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ও উন্নয়নমূলক চুক্তিতে যাদের রাখা হয়েছে, সেদিকে তাকালেই বোঝা যায়, আমরা এখন কিছুটা ভিন্ন পথে এগোচ্ছি।’

তাহলে কি লিচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ? এখনই অবশ্য এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ২০২৮ সালের শুরুতে ভারতে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার কথা ইংল্যান্ডের। সেই সফর অভিজ্ঞ এই স্পিনারের সামনে ফেরার আরেকটি সুযোগ এনে দিতে পারে। তবে আপাতত তাঁর ১৪২ টেস্ট উইকেটের সঙ্গে নতুন কোনো উইকেট যোগ হওয়ার অপেক্ষা দীর্ঘই হচ্ছে।
 

Related Articles

Latest Posts