ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিপাকে রিয়াল মাদ্রিদ। এরমধ্যেই শাস্তি ঘোষণার সময় নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ব্রাজিলিয়ান তারকার নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ করে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। তার অভিযোগ, এখন আর কিছু আড়াল করার চেষ্টাও করা হচ্ছে না। সবকিছুই চলছে প্রকাশ্যে, কোনো রকম লজ্জা ছাড়াই।
গত শনিবার ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের নাথান সালিবার চুল টেনে ধরে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন ভিনিসিয়ুস। মাঠ ছাড়ার আগে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদও করেন তিনি। দুটি ঘটনাকে আলাদা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে বুধবার তাকে মোট চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে খেলা হচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের।
তবে নিষেধাজ্ঞার চেয়েও সেটি ঘোষণার সময় নিয়ে বেশি ক্ষুব্ধ মরিনহো। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার মাঠে ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষের কঠোর সমালোচনা করেন পর্তুগিজ এই কোচ, ‘আপনার কি মনে হয়, এটা স্বাভাবিক যে স্পেনের একটি দলের খেলোয়াড়, যে কিনা স্প্যানিশ ফুটবলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে, সে ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে জানতে পারবে তাকে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে?’
শাস্তি ঘোষণার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘এটা কি এখন করা যেত না? কিংবা আগামীকাল সকালে? আমরা যখন বাসে করে স্টেডিয়ামের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, ঠিক তখনই কি ভিনিসিয়ুসকে জানতে হবে যে সে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ?’
এখানেই থামেননি মরিনহো। পর্তুগালের একটি প্রচলিত প্রবাদ টেনে স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষকে কটাক্ষ করেন তিনি, ‘পর্তুগিজ ভাষায় একটা কথা আছে, বিড়াল লেজ ঢেকে লুকিয়ে আছে। কিন্তু এখন সেই বিড়াল আর লুকিয়ে নেই। সবকিছুই প্রকাশ্যে করা হচ্ছে, কোনো লজ্জা ছাড়াই।’
নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের সময়টি ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন রিয়াল কোচ, ‘ম্যাচের আগে একজন খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে শেষ করে দিতে চান? এটা তো এখন আর প্রশ্নের পর্যায়েও নেই।’
স্প্যানিশ ফুটবলের স্বার্থের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। মরিনহো মনে করিয়ে দেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের জয় শুধু ক্লাবটির জন্য নয়, স্প্যানিশ ফুটবলের মর্যাদা ও উয়েফার র্যাঙ্কিংয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি ম্যাচের ঠিক আগে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে নিষেধাজ্ঞার খবর জানানো তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার খবর নিয়েই রোমার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ম্যাচে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে তাকে তুলে নেন মরিনহো। বদলি হওয়ার সময় ব্রাজিলিয়ান তারকার বিরক্তি প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সংবাদ সম্মেলনে।
এ প্রসঙ্গে মরিনহো বলেন, ‘বদলি হওয়ার সময় একজন খেলোয়াড়ের হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। এমন আচরণ আমার পছন্দ নয়, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়ের হতাশা আমি বুঝতে পারি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ম্যাচ শেষে দলের জয়ে সে খুশি ছিল।’
ভিনিসিয়ুসের মানসিক অবস্থার বিষয়টিও বোঝার চেষ্টা করেছেন মরিনহো। তাঁর মতে, পেশাদার ফুটবলারদের অনেক সময় ব্যক্তিগত আবেগ সরিয়ে রেখে মাঠে খেলতে হয়। রোমার বিপক্ষে ম্যাচে ভিনিসিয়ুসও সেই চেষ্টা করেছেন।
