নির্বাচনে হেরে গেলে কী করবেন নেতানিয়াহু, কেন বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা?

সাম্প্রতিক ইতিহাসে গাজায় জঘন্যতম গণহত্যা চালানোর পর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইসরায়েলিরা। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর প্রথম পাঁচ ঘণ্টাতেই ভোটার উপস্থিতি ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ২৪ লাখের বেশি মানুষ।

১৯৭৩ সালের পর নির্বাচনের এই পর্যায়ে এত বেশি ভোটার উপস্থিতি আর দেখা যায়নি। ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে একই সময়ে ভোট পড়েছিল ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠিনতম এই নির্বাচনে আবারও ভোটারদের আস্থা চেয়েছেন নেতানিয়াহু। অথচ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার দায় এখনো স্বীকার করেননি তিনি। নির্বাচনে হারলে ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি নতুন করে যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করতে পারেন।

এ পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর দ্রুত সরকার গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার ঠিক তিন বছর ২০ দিন পর ইসরায়েলে নির্বাচন হচ্ছে। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যে প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, তিনি এখনো দায় স্বীকার করেননি। ঘটনার তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশনও গঠন করেননি। বরং তার মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে তিনি ঘটনার তথ্য আড়াল, উসকানি এবং প্রমাণ নষ্ট করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

এখন সেই ব্যর্থতার দায়ে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও তার জোট আবারও জনগণের আস্থা চাইছে। তারা বিচারব্যবস্থার সংস্কারের নামে নেওয়া বিতর্কিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এই উদ্যোগ ইসরায়েলি সমাজকে বিভক্ত করেছে, দেশটির প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করেছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পেছনেও ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

আজ নির্বাচনের দিন ভোটারদের এসব বিষয় মনে রাখা জরুরি বলে জানিয়েছে হারেৎজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংঘাত এবং ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞ থেকেও নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রীরা কোনো শিক্ষা নেননি। বরং তারা আগের চেয়ে বেশি বেপরোয়া ও উসকানিদাতা হয়ে উঠেছেন। চলতি সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পরবর্তী মেয়াদে তিনি ‘বিচারিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটাবেন’।

এদিকে হাজারো ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন, আরও হাজারো সেনা শারীরিক ও মানসিকভাবে আহত। সেনাবাহিনী ক্লান্ত ও ভাঙনের মুখে, রিজার্ভ সেনারাও চরমভাবে অবসন্ন। একইসঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে সংঘাত চলছে। তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোট ধরে রেখেছেন। তাদের জন্য ব্যাপকভাবে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং নিয়োগ এড়ানো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করছেন।

হারেৎজের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিভক্ত একটি রাজনৈতিক জোটের নেতৃত্বে। ধারাবাহিক সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

শেষপর্যন্ত তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ বাধানোর মতো একের পর এক উসকানির মাধ্যমে সেই পরিণতি ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির তাকে থামিয়েছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও নেতানিয়াহুকে ‘থামো’ বলতে রাজি করিয়েছেন তিনি।

ঐতিহাসিক বিচারে ইরান ইস্যুই নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা। তার মধ্যে জমে থাকা হতাশা ও ভয়, পাশাপাশি বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলার প্রবণতা, তাকে নিজের মুখেই সেই ব্যর্থতা স্বীকার করতে বাধ্য করছে বলে মনে হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে আগের দুটি যুদ্ধের পর যে নেতানিয়াহু দেশটির পারমাণবিক হুমকি কয়েক দশক পিছিয়ে দেওয়ার দাবি করেছিলেন, তিনিই এখন ইসরায়েলিদের মৃত্যু ও ধ্বংসের আশঙ্কা দেখাচ্ছেন।

নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের একটি বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে, পারমাণবিক বোমায় তেল আবিব ধ্বংস হচ্ছে। যে বোমা ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি তিনি করেছিলেন, সেই বোমার অস্তিত্বেরও কোনো প্রমাণ নেই। বিজ্ঞাপনটির উদ্দেশ্য শুধু মানুষের মধ্যে ভয় ছড়ানো নয়, নির্বাচনের আগে ইরানকে প্রথমে হামলা চালাতে প্ররোচিত করারও শেষ চেষ্টা ছিল।

তিনি এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চাইছেন, যেন ইসরায়েলের অস্তিত্ব পুরোপুরি ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ইরান চাইলে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারবে, আর সেই ক্ষেপণাস্ত্র অ্যারো, ডেভিডস স্লিং, আয়রন ডোম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঠেকাতে পারবে না। এমনকি আগেভাগে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদও হামলাটি প্রতিহত করতে পারবে না। ক্ষেপণাস্ত্রটি বাধাহীনভাবে তেল আবিবের রবিন স্কয়ারে আঘাত হানবে।

অথচ এখন পর্যন্ত শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা সফলভাবে মোকাবিলা করেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু বোঝাতে চাইছেন, তিনি সরকারপ্রধান না থাকলে ইসরায়েল পরাজিত হবে।

ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলোর নেতাদের তিনি প্রায়ই গুরুত্বহীন বলে উপহাস করেন। কখনো তাদের ‘ফিলিস্তিনি’ বলেও আক্রমণ করেন। অথচ বিরোধী শিবিরে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান, যিনি নিজের ছেলে এবং দুই ভাতিজাকে হারিয়েছেন; রয়েছেন দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা সাবেক মন্ত্রীরা। নেতানিয়াহুর ভাষায়, তারাই এখন দেশের শত্রু।

নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের এমন এক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, যেখানে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসবে, কালোবাজারের ওপর নির্ভরশীল হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান ইরানের মতো হয়ে পড়বে।

তার নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে বাম পা টেনে হাঁটতে এবং দেহরক্ষীর সহায়তা নিতে দেখা গেছে। এ ছাড়া, কাতার-সংশ্লিষ্ট নানা তথ্য তার দপ্তরে গোপন রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

রোববার রাতে নিজের প্রতি অনুগত টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার সঙ্গে জায়েভ জাবোতিনস্কির তুলনা করেন। ১৯৩৮ সালে ওয়ারশতে গিয়ে জাবোতিনস্কি ইহুদিদের আসন্ন বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সারকথা, ইসরায়েলিরা নিজেদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিপর্যয় ঘনিয়ে আসছে। তাই তাকে নির্বাচিত করা উচিত।

কিন্তু নেতানিয়াহু প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকেও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে পারেননি। এখন তিনি আবারও একই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তেল আবিবে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা তুলে ধরে তিনি একে ‘ইরানি বিচ্ছুর হতাশার হুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তার রাজনৈতিক জীবনে ভয় দেখানো, হুমকি এবং নিজেকে নিপীড়িত হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা বারবার দেখা গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন একবার তাকে এমন এক ভীত ইহুদির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, যে হত্যাযজ্ঞ শেষ হওয়ার পর গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু যে যুদ্ধ চেয়েছিলেন, তা হয়তো আর শুরু করতে পারবেন না। তবে ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু করার হুমকি দিয়েছেন। নেতানিয়াহুও ইসরায়েলের শক্তিশালী বিমানবাহিনীকে প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছেন।

নভেম্বরে যুদ্ধ শুরু হলে নেতানিয়াহুর কী লাভ হতে পারে? এতে হয়তো নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অথবা তিনি এমন একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, যা বাস্তবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। আরেকটি উদ্দেশ্য হতে পারে, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিরোধীদের সংখ্যালঘু সরকার গঠনের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করা।

এমন সরকার গঠনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা প্রচার চালাতে পারেন যে, ‘আমরা আরবদের সঙ্গে লড়ছি, আর তোমরা তাদের নিয়ে সরকার গঠন করছ? এটা বিশ্বাসঘাতকতা!’

হারেৎজ বলছে, তাই বিরোধী দলগুলোর নেতাদের এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। দ্রুততম সময়ে নতুন সরকার গঠন করে ট্রাম্পকে বোঝাতে হবে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং দেশটি আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার হাতে তুলে দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো ইসরায়েলের অস্তিত্বের স্বার্থেই জরুরি, এমনটাই মনে করছেন হারেৎজের বিশ্লেষক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত করার সময় নেই। বিরোধী দলগুলো চাইলে ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের প্রথম দিনেই সরকার গঠন করতে পারে। এজন্য তাদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঠিক করতে হবে, দ্রুত জোটের আলোচনা শেষ করতে হবে এবং মন্ত্রণালয় বণ্টনের বিষয়ে একমত হতে হবে। এরপর ৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে জানাতে হবে যে নতুন সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের রয়েছে।

এরপর নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার দিনই নতুন সরকারকে শপথ পড়ানোর জন্য নেসেটের স্পিকারের কাছে আবেদন জানাতে হবে। স্পিকার দেরি করলে সুপ্রিম কোর্ট তাকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিতে পারেন। ৩ থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে দলগুলো জোট চুক্তি প্রস্তুত করে অধিবেশন শুরুর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে তা সংসদে জমা দিতে পারবে।

হারেৎজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব এবং তা পুরোপুরি বিরোধী দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। অধিকাংশ জনমত জরিপের পূর্বাভাস সঠিক হলে এবং বিরোধী শিবিরের প্রার্থী ৬১ জনের বেশি সংসদ সদস্যের সমর্থন পেলে প্রেসিডেন্টের সামনে কোনো বিকল্প থাকবে না।

নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসনসংখ্যার ব্যবধানও জনমতকে প্রভাবিত করবে। বর্তমানে বিরোধী শিবিরের ইয়াশার এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসন সংখ্যার তুলনাও গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী জোট ৭০টি এবং নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন পেলে, আর লিকুদের ১৮ বা ১৯টির বিপরীতে ইয়াশার ২৩ বা ২৪টি আসন পেলে, ট্রাম্পের পক্ষেও বোঝা কঠিন হবে না যে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পরাজিত নেতানিয়াহু তখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে পূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধানকে দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন সামরিক অভিযান চালানোর চাপ তৈরি করা তার জন্য কঠিন হতে পারে। সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে ফাঁস হওয়া বিভিন্ন তথ্যেও মনোভাব পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

হারেৎজের আমোস হারেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াল জামির মনে করেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে অভিযান শেষ করার সময় এসেছে। কিন্তু নেতানিয়াহু ও তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ অভিযান চালিয়ে যেতে চান। পশ্চিম তীরে নতুন করে ইন্তিফাদা শুরু হলে তাদের রাজনৈতিক সুবিধা হতে পারে। পরিস্থিতি যত রক্তক্ষয়ী হবে, তাদের জন্য ততই ভালো, এমন অভিযোগের কথা বলা হয়েছে বিশ্লেষণী প্রতিবেদনটিতে।

নেতানিয়াহু এর আগেও ১৯৯৯ ও ২০২১ সালে ক্ষমতা হারিয়েছেন। এবার তার হারার ঝুঁকি আরও বেশি। এ কারণে লিকুদ পার্টি অনুগত ভোটারদের কেন্দ্রে আনার পাশাপাশি নির্বাচনের ফল নিয়ে সন্দেহ তৈরির পরিকল্পনাও করছে বলে হারেৎজের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি, আরব জনগোষ্ঠীর ভোট এবং বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটিতে ভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রচার ধারাবাহিকভাবে চালানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে এই প্রস্তুতি অনেক আগেই শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে পত্রিকাটি।

পুলিশপ্রধান ড্যানি লেভির সঙ্গে নেতানিয়াহু ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বৈঠকেও এ ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে হারেৎজ। বৈঠকে নেতানিয়াহু পুলিশপ্রধানকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কাপলানপন্থী’ ও ‘চরম বামপন্থীরা’ নির্বাচন বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা করছে কি না।

এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সলবার্গ, অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারাভ-মিয়ারা এবং সুপ্রিম কোর্টকে উসকানি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে বলে হারেৎজের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে।

হারেৎজের বিশ্লেষণ মতে, নির্বাচনের পর সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু নেতানিয়াহুর পরাজয় নয়; বরং ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, সেটিই আসল উদ্বেগের বিষয়। তাই বিরোধী দলগুলোর উচিত নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দ্রুত সরকার গঠনের প্রস্তুতি রাখা, যাতে নতুন করে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির সুযোগ সীমিত করা যায়।

Related Articles

Latest Posts