এল নিনোর প্রভাব: গরম বাড়লেও চরম রূপ নেওয়ার শঙ্কা কম

জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা আগামী মাসগুলোতে এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ হয়তো এর পূর্ণ তাণ্ডব থেকে বেঁচে যাবে 

তাদের মতে, দেশে গরম ও তাপপ্রবাহ বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো রূপ নেওয়ার আশঙ্কা কম।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী তিন মাসে দেশজুড়ে আট থেকে ১০টি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই তিন থেকে চারটি তাপপ্রবাহ হতে পারে।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. রাশেদ চৌধুরী বলেন, ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুমে এল নিনোর মাঝারি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে এটি কখন ও কতটা শক্তিশালী হয়ে তৈরি হয়, তার ওপর পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, সাধারণত বর্ষার শুরুতে বা তার আগে এল নিনো সক্রিয় হলে দক্ষিণ এশিয়ার বৃষ্টিপাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। কিন্তু এবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর শক্তিশালী প্রভাব গ্রীষ্মের শেষ ভাগ বা বছরের পরের দিকে স্পষ্ট হতে পারে। ফলে ১৯৮২-৮৩ বা ১৯৯৭-৯৮ সালের মতো তীব্র খরা বা বর্ষা মৌসুমে একেবারেই বৃষ্টি না হওয়ার মতো চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি বাংলাদেশ নাও হতে পারে।

রাশেদ চৌধুরী আরও বলেন, এল নিনো গড় বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ালেও বাংলাদেশের মৌসুমি আবহাওয়া শুধু এর ওপর নির্ভর করে না। ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি, আঞ্চলিক আবহাওয়ার ধরন ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তার ভাষায়, আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। তবে আগামী মাসগুলোতে আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং প্রস্তুত থাকা জরুরি।

এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে বলেছে, আগামী মাসগুলোতে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াবে এবং বিভিন্ন দেশে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ এল নিনোর বিকাশকে ত্বরান্বিত করছে। জুন থেকে আগস্টের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে এবং পরিস্থিতি নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত কম হতে পারে এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। তবে আগামী মাসগুলোতে তাপমাত্রা ঠিক কতটা বাড়বে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক গোলাম রব্বানী বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এল নিনোর কারণে দেশের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ ও খরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবার স্বল্প সময়ের অতিভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার ঘটনাও ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার প্রভাব ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে পানিসম্পদের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের পিএইচডি গবেষক এবং বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাজিব কুমার সাহা বলেন, দুর্বল বর্ষা, দীর্ঘ শুষ্ক সময়, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় পানিপ্রবাহ কমে গেলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়তে পারে। এতে দেশের প্লাবনভূমি ও পানিনির্ভর বাস্তুতন্ত্র ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তিনি শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই পানিসংকটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।

 

 

Related Articles

Latest Posts