সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঠিক কোন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।
আহতরা হলেন—কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের মৃত খাজের আলী সরদারের ছেলে মো. শাহীন (২৮) ও গোলাম রব্বানীর ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৪০)। তাদের মধ্যে মহিউদ্দিনের হাতে ও শাহীনের পিঠে গুলি লেগেছে।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই দুজন সীমান্ত এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে তারা দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুজায়েত হোসেন জানান, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মহিউদ্দিনের বাবা মো. রব্বানী জানান, তার ছেলের হাত ও শাহীনের পিঠে গুলি লেগেছে। গুলির আঘাতে তার ছেলের হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, বুধবার ভোরের দিকে দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তারা বিএসএফের গুলির শিকার হয়েছেন। তবে ঘটনাটি ঠিক কোন সীমান্তে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরা-১৭ বিজিবির নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাজিব হোসেন বলেন, আমার আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে এখন পর্যন্ত জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, সাতক্ষীরার দীর্ঘ সীমান্তে ৩৩ ও ১৭ বিজিবি ছাড়াও সুন্দরবনের ভেতরে রিভারাইন বিজিবি কাজ করছে। আহত ওই দুজন ঠিক কোন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
