স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য আগস্টে তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে অক্টোবর থেকে। এর আগে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমসহ অংশীজনদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না ইসির।
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগস্টে তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনী আচরণবিধিতে সংশোধন আনা হচ্ছে। এর লক্ষ্যে দুটি বৈঠকও করেছে ইসির আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটি।
ইউনিয়ন পরিষদের তফসিল ঘোষণা কবে এবং ভোট কবে শুরু হবে— জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অক্টোবরে তো ভোট হয়েই যাবে। আর তফসিল ঘোষণা হতে পারে আগস্টে। ইউনিয়ন পরিষদ আর পৌরসভা নির্বাচন যদি না করা হয়, আইনত উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করা যাবে না।’
স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের ক্রম নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এক্স অফিসিও মেম্বার অব উপজেলা পরিষদ। এই কারণে নিয়ম অনুযায়ী, আগে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এটাই বাস্তবতা। তবে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করা যাবে। কিন্তু, জেলা পরিষদের নির্বাচন একেবারেই করা যাবে না। এটা হবে সবার শেষে।’
ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই কমিশনার আরও বলেন, ‘উপজেলাধীন কোনো ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার কাউন্সিলের মোট সংখ্যার এক তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তাদের মনোনীত করবেন ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।’
ইসি কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি আলাদা। গত মঙ্গলবার ও বুধবার ইসির আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটির দুটি বৈঠক হয়। এই দুই বৈঠকে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির প্রধান আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
আচরণবিধিতে কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে— জানতে চাইলে গতকাল তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রার্থীদের জামানত জমা দেওয়ার সীমা বাড়বে, অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে না, স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ সমর্থনের বিধান থাকছে না, পোস্টার থাকছে না, ইভিএমের ব্যবহার থাকছে না এবং পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান থাকছে না।’
তিনি জানান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীদের হলফনামায় আলাদা কোনো অঙ্গীকারনামা থাকবে না। হলফনামায় ফরমের সঙ্গে একটি ঘোষণাপত্র থাকবে। প্রার্থী আচরণবিধি মেনে চলবেন— ঘোষণাপত্রে এমন একটি লাইন যুক্ত হবে।
স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চাইলে ইসি মাছউদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার মতো কোনো বিধান আচরণবিধিতে রাখা হচ্ছে না। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নির্দলীয় হবে। যে পদে একজন প্রার্থী হবেন, সেই পদের আইনি যোগ্যতা যদি থাকে বা প্রার্থী যদি অযোগ্য না হন, তাহলে ভোটে দাঁড়াতে পারবেন। প্রার্থী মেয়ে নাকি ছেলে, হিন্দু নাকি মুসলমান— এসব কিছু নেই আমাদের আইনে। এখানে পার্টির সঙ্গে কোনো প্রার্থীর সম্পর্ক নেই।’
নির্বাচনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘অংশীজনদের সঙ্গে আমরা সংলাপে বসব না। আইন ও বিধিতে যেসব পরিবর্তন আনা হবে, তা আমরা ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেব। সবার জন্য তা উন্মুক্ত করে দেব, সবাই মতামত দিতে পারবেন।’
