ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
দ্য হিন্দু জানিয়েছে, এই বিক্ষোভকে ঘিরে আজ শনিবার দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর যন্তর-মন্তরে জড়ো হয়েছেন।
অনলাইনভিত্তিক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে এসে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘যন্তর-মন্তরে সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে আমাদের এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে হবে।’
সপ্তাহের শুরুতে বোস্টন থেকে ভারতে ফেরার ঘোষণা দিয়ে দীপকে বলেছিলেন, পরীক্ষা-সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও ব্যর্থতার দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করবেন।
শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়য়াংচুকও জানিয়েছেন, ৫ জুনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে তিনি আন্দোলনে যোগ দেবেন।
এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর শহরের ওয়ালুজ এমআইডিসি এলাকায় অবস্থিত অভিজিৎ দীপকের বাসভবনের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
জোন-১-এর উপ-পুলিশ কমিশনার পঙ্কজ অতুলকর বলেন, দীপকে ভারতে আসার পর তার বাড়ির সামনে যাতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না হয়, সে কারণেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আরও জনবল মোতায়েন করা হবে।’
অতুলকর আরও জানান, বর্তমানে দীপকের বাবা-মা ওয়ালুজ এলাকার ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন না। তবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেন তিনি।
देश का युवा अब डरेगा नहीं लड़ेगा
कॉकरोच डरते भी नहीं, कभी मरते भी नहीं #cjpprotest pic.twitter.com/BxUMDJv6Sl
এর আগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দীপকে এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছিলেন, ‘সরকার তেলাপোকাকে এত ভয় পায় কেন? কিন্তু এই কর্তৃত্ববাদী আচরণ ভারতের তরুণদের চোখ খুলে দিচ্ছে। আমাদের একমাত্র “অপরাধ” ছিল নিজেদের জন্য আরও ভালো ভবিষ্যৎ দাবি করা। কিন্তু এত সহজে আমাদের সরানো যাবে না। আমরা নতুন একটি ঠিকানা তৈরির কাজ করছি। তেলাপোকারা কখনও মরে না।’
এই বিক্ষোভকে ঘিরে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর জোর দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছে দ্য হিন্দু।
