নাদের চৌধুরীর অভিনয়জীবন শুরু হয় মঞ্চনাটক দিয়ে। টেলিভিশনের সাড়া জাগানো ‘রূপনগর’ ও ‘বারো রকম মানুষ’ ধারাবাহিক দুটিতে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয় ও পরিচালনা দুটোই করেছেন। সদ্য প্রচার শেষ হওয়া আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এ বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
এবারের ঈদে নাদের চৌধুরীর অভিনীত বেশ কয়েকটি নাটক প্রচারিত হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনয়শিল্পী।
দ্য ডেইলি স্টার: অভিনয়জীবনে কোন নাটক দিয়ে দর্শকদের কাছাকাছি পৌঁছান?
নাদের চৌধুরী: বহু বছর আগে ইমদাদুল হক মিলনের লেখা ও আলাউদ্দিন আহমেদ প্রযোজিত ‘বারো রকম মানুষ’ ধারাবাহিকে জায়গির মাস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। ওই নাটক ব্যাপকভাবে দর্শকনন্দিত হয়েছিল। মানুষ আগ্রহ নিয়ে দেখেছিলেন। একটি বাড়িতে জায়গির থাকি এবং সুবর্ণা মুস্তাফার ছোট বোনকে পড়াই, এমন একটি চরিত্র ছিল আমার। চরিত্রটির জন্য তখন অনেক প্রশংসা পেয়েছি। তবে অভিনয় করার আগে বেশ প্রস্তুতি নিয়েই কাজটি করেছিলাম। এরপর ‘রূপনগর’ ধারাবাহিকে অভিনয় করি। এই নাটকের নাট্যকারও ইমদাদুল হক মিলন। অনেক বছর আগে এই দুটি নাটক আমাকে দর্শকদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে দেয়।
দ্য ডেইলি স্টার: সম্প্রতি ‘সবুজের গ্রাম’ নামের একটি নাটকে আপনার অভিনয় বেশ সাড়া ফেলেছে…
নাদের চৌধুরী: ‘সবুজের গ্রাম’ নাটকে গ্রাম থেকে শহরে আসা একজন মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছি। মেয়ের চাকরির জন্য শহরে আসি, এরপর নানাভাবে অপমানিত হই। এটা আসলে আবেগের (ইমোশনাল) গল্প। নাটকটি প্রচারিত হওয়ার পর খুব প্রশংসা পাচ্ছি। চেনাজানা ও পরিচিত মানুষেরা তাদের ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। আসলে যখন যে কাজটি করি, চরিত্র নিয়ে ভাবি না; ভালো অভিনয় করতে হবে, সেটাই ভাবি।
দ্য ডেইলি স্টার: বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’—যেখানে আপনার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। আপনার অনুভূতি জানতে চাই।
নাদের চৌধুরী: ‘এটা আমাদেরই গল্প’ বর্তমান সময়ের অন্যতম দর্শকপ্রিয় নাটক। নাটকের জগতে এটি বড় অর্জন। নতুন প্রজন্মের দর্শকেরা ভীষণভাবে দেখেছেন। আমার চরিত্র ও পুরো নাটকটি নিয়ে যে রকম সাড়া পাচ্ছি, তা কখনোই ভোলার নয়। সারা জীবন মনে থাকবে।
আগে আমার বাসার গল্পটা বলি—বাসার গেটে বের হলেই অভিভাবকেরা বাচ্চাদের নিয়ে আসেন। বাচ্চারা আমার সঙ্গে ছবি তোলে। বাচ্চাদের ধারণা, আমি মারা গেছি। সে জন্যই ওরা ছবি তোলে, তাকিয়ে থাকে। অভিভাবকেরা বলেন, ওদের মন খারাপ, নাটকে আপনি মারা গেছেন, সে জন্য ওরা আপনাকে দেখতে এসেছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের বলি, ‘ওটা তো অভিনয়! এই যে দেখো, আমি বেঁচে আছি।’ নাটকে আমার মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে আমি এখনো বেঁচে আছি।
দেশ-বিদেশের বহু দর্শক জানিয়েছেন, ৬ থেকে ১০-১২ বছরের বাচ্চারা এই নাটক দেখেছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বাংলা নাটকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। নাটকের জন্য এটা বড় পাওয়া।
দ্য ডেইলি স্টার: এই সময়ে এসেও এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন, কেমন লাগে?
নাদের চৌধুরী: আমি মনে করি, জীবনের এই পর্যায়ে এসে এসব ভালোবাসা সেরা পাওয়া। মানুষ বলছেন, ‘আপনি তো দুর্দান্ত অভিনয় করছেন!’ এসব কথা আমার জন্য বড় পুরস্কার। একটি চরিত্র কীভাবে জনপ্রিয়তা পায়, মানুষের আবেগকে কোথায় নিয়ে যায়, তা এই অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দেখতে পাচ্ছি।
দ্য ডেইলি স্টার: ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন।
নাদের চৌধুরী: রাজ মেধাবী পরিচালক। ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে অভিনয়ের সময় পরিচালক যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই করেছি। অতিরিক্ত কিছুই করিনি। গল্পের ভেতরে চরিত্রটি যেমন ছিল, তেমনই ফুটিয়ে তুলেছি। গল্প ও চরিত্রটা মাথায় নিয়েছিলাম। আমার ভেতরে একধরনের অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। পরিচালক বলেছিলেন বাবার মৃত্যু হবে, পরে তা-ই হয়েছে। কিন্তু দর্শকেরা এটা মেনে নিতে পারেননি। রাজের এই নাটক দিয়ে আমি নতুন করে কামব্যাক করেছি।
দ্য ডেইলি স্টার: অভিনয় নিয়ে কী স্বপ্ন দেখতেন?
নাদের চৌধুরী: হিরো হওয়ার স্বপ্ন ছিল না, অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। অভিনয়টাই করে যাচ্ছি। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজ করছি, মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। এখনো আমার কাছে যে রকম চরিত্র আসে, সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে অভিনয় করি। অভিনয়জীবনের শেষ অধ্যায় পার করছি—এই সময়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেওয়া অনেক বড় পাওয়া।
