বাজেট ঘোষণার দিন যেমন ছিল ঢাকার বাজার

জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। এদিন বৃষ্টির কারণে সবজি, ডিম ও মাছের বাজারে দাম কমায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও আগের মতোই ছিল মাংস, তেলের দাম।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ইবরাহিমপুর ও কল্যাণপুরের কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে দ্য ডেইলি স্টার। বাজেট নিয়ে নিজেদের ভাবনার কথা জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা দুপক্ষই।

কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা আব্দুল জলিল স্বল্প বেতনের একটি বেসরকারি চাকরি করেন। কারওয়ান বাজারে তার সঙ্গে বাজেট নিয়ে কথা হয়।

ডেইলি স্টারকে জলিল বলেন, ‘অত বিস্তারিতভাবে বাজেট বুঝি না। তবে বুঝি বাজারের দাম ওঠা-নামা করে চাহিদার ভিত্তিতে। শুনেছি কিছু জিনিসের ট্যাক্স বাড়লে দাম বাড়ে, আবার কিছু জিনিসের দাম কমে।’

‘আজ সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহে কাঁকরোল কিনেছিলাম ৮০ টাকা কেজি দরে। আজ মোটামুটি বেশ কয়েক পদের সবজি কিনলাম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।’

আরেক ক্রেতা মাহবুবুর রহমান কাজ করেন বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে। বাজেটে কোনো পণ্যের দাম মাত্রাতিরিক্ত ওঠা-নামা করলে টেলিভিশন বা পত্রিকায় সেই খবর নেন তিনি।

মাহবুবুর বলেন, ‘বাজেটের সঙ্গে প্রতিদিনের কাঁচাবাজারের কোনো সম্পর্ক দেখি না। আর এটা আমাদের হাতেও নেই। যেদিন যেমন দাম থাকে, সেটা বুঝেই ঘরের বাজার করতে হয়।’

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি, মুরগি ও ডিমের মাংসের দাম কিছুটা কমেছে। তবে অপরিবর্তিত আছে গরুর মাংস, ভোজ্য তেল, চিনি ও অধিকাংশ মুদি সামগ্রীর খুচরামূল্য। মাছের মধ্যে শুধু ইলিশের দাম খানিকটা কমলেও আগের মতোই আছে অন্যান্য মাছের দাম।

সবজির দাম কমার কারণ জানান গত ১৫ বছর ধরে কারওয়ান বাজারে কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সাপ্লাই (যোগান) বেড়েছে। এ কারণে দাম কমেছে সবজির। সরবরাহ বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা মজুত শেষ করতে চাচ্ছেন। নয়তো সেগুলো পচে যাবে।’

আল্লার দান ফিসের স্বত্বাধিকারী শুক্কুর আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ইলিশ মাছের মৌসুম শুরু হতে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার মতো। আজ তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে। সামনে জেলেরা মাছ ধরা শুরু করলে এটি আরেকটু কমে আসতে পারে।’

তবে রুই মাছের দাম রয়েছে আগের মতোই। এক কেজির বেশি ওজনের রুইয়ের দাম প্রতি কেজি ৩০০-৩৫০ টাকা। আরও বড় আকারের বা দুই কেজির বেশি ওজনের ক্ষেত্রে রুই মাছ কেনা যাচ্ছে প্রতি কেজি ৩৮০-৪০০ টাকা দরে।

কাজীপাড়ার মুরগি ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া জানান, মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।

তিনি বলেন, ‘বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০-১৭০ টাকা দরে। সোনালি মুরগির দাম ৩২০-৩৫০ টাকার মতো। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজনে ডিমের দাম কমেছে প্রায় ১০ টাকা। প্রকারভেদে ১১০-১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এক ডজন ডিম।’

Related Articles

Latest Posts