এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাকের দাবি ইরান-সংশ্লিষ্ট গ্রুপের, বিশ্বকাপে ‘হামলার হুমকি’

এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাকের দাবি করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবলকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার হুমকি দিয়েছে তারা।

অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বরাতে আজ শুক্রবার সিবিএস এ তথ্য জানিয়েছে।

‘হান্দালা’ নামে ওই হ্যাকার গ্রুপের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। এতে দাবি করা হয়, এফবিআইয়ের ব্যবহৃত এফপিভি (ফার্স্ট-পার্সন ভিউ) ড্রোনের ধারণ করা প্রতিটি ছবি ও সন্দেহভাজনদের তথ্যে তারা ‘কয়েক মাস ধরে’ প্রবেশ করছে।

হ্যাকাররা জানিয়েছে, কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত এই ড্রোনগুলোতে মানুষের চেহারা শনাক্তকরণ ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের তথ্য পৃথক করার প্রযুক্তি রয়েছে।

বিবৃতিতে ‘হান্দালা’ বলেছে, আপনাদের বিশ্বকাপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা দরকার। কারণ (অংশগ্রহণকারী) দলগুলোর কয়েকটিকে আমরা মোটেও পছন্দ করি না। ভুলে যাবেন না এফপিভি ড্রোন সব জায়গায় আছে। আপনারা কখনোই জানবেন না যে কখন একটি ড্রোন ঠিক কোন দলের বাসের ভেতরে গিয়ে হাজির হবে।

অননুমোদিত কোনো আকাশযান বা ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর চারপাশে ড্রোন মোতায়েন করছে এফবিআই।

যুক্তরাষ্ট্রের যেসব স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং টুর্নামেন্ট-সংশ্লিষ্ট ইভেন্টগুলোতে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকবে।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সম্ভাব্য সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল মার্কিন বিচার বিভাগ।

হান্দালা এমন কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে যেগুলো তাদের দাবি অনুযায়ী হ্যাক হওয়া ড্রোন থেকে নেওয়া।

তবে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ দাবির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে।

তারা বলছে, হ্যাকিংয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখানো একটি ভিডিও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের। সেটি একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিল। ওই ভিডিও টর্নেডোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কাজে মার্কিন পুলিশ বিভাগের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রচারণার অংশ ছিল।

মার্চে এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকের দাবি করেছিল হান্দালা। সেসময় অনলাইনে প্যাটেলের ব্যক্তিগত ছবি ও কিছু তথ্য প্রকাশ করেছিল তারা।

এই হ্যাকার গ্রুপের সদস্যদের শনাক্ত করতে তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

Related Articles

Latest Posts