মোংলা কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬

বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে হামলার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

এ ঘটনায় নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখের পরিবারের সদস্যসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

শুক্রবার মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অধীন জয় মনি ঘোল এলাকার হারবারিয়া স্টেশনের কনটিনজেন্ট কমান্ডার মো. শহিদুর রহমান শাহীন সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলাটি করেন।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখের স্ত্রী মুক্তা খাতুন, বোন লিজা ইসলাম ও মা তাসলিমা বেগম।

ওসি আরও জানান, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে এজাহারভুক্ত তিনজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠায় আদালত।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১১ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুজব ছড়িয়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হন। পরে তারা ১৫-২০টি নৌকায় এসে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে কোস্টগার্ড সদস্যদের হুমকি দেন এবং জানালা, চেয়ার, ফ্যান ও টেবিলসহ সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেন।

এর আগে গত ১৩ মে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখের স্ত্রী মুক্তা অভিযোগ করেন, গত ১০ এপ্রিল রাতে কোস্টগার্ডের একটি দল তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় মুক্তা ২৩ এপ্রিল মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

স্থানীয়রা জানান, মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কোস্টগার্ডের উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এদিকে, হারবারিয়া স্টেশনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় দস্যু ও তাদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।

শুক্রবার কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘কোনো অপপ্রচার, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিচালিত অভিযানে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড গোলা, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৯ জন বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts